ভোট (West Bengal Assembly Election) ঘোষণা হওয়ার আগেই বঙ্গে আসছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। শনিবার অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। ঠিক পরের দিনই অর্থাৎ রবিবার ২৪০ কোম্পানি বাহিনী বাংলায় এসে পৌঁছবে বলে খবর। ইতিমধ্যে কোথায় কোথায় এই বাহিনী মোতায়েন করা হবে সেই সংক্রান্ত তালিকাও কমিশন চূড়ান্ত করে ফেলেছে বলে খবর। জানা যাচ্ছে, সবথেকে বেশি বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুরে। মোতায়েন হবে ১৪ কোম্পানি বাহিনী। এরপরেই রয়েছে কলকাতা এবং মালদহ। এই দুই জায়গাতেই ১২ কোম্পানি করে বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে খবর।
সবকিছু ঠিক থাকলে মার্চেই প্রথম কিংবা মাঝামাঝি সময়ে বাংলায় ভোটের (West Bengal Assembly Election) দিন ঘোষণা করতে পারে কমিশন। চলছে জোর কদমে সেই প্রস্তুতি। কিন্তু তার আগেই রাজ্যের মানুষের নজর রয়েছে এসআইআর তালিকায়। রয়েছে আতঙ্কও। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হলে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির আশঙ্কা রয়েছে। যদিও ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে দফায় দফায় রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। যেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাহিনী আসলে কোনওভাবে তা বসিয়ে রাখা যাবে না। এমনকী দ্রুত রুট মার্চ করাতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কোথায় কোথায় বাহিনীকে মোতায়েন করা হবে সেই তালিকাও চূড়ান্ত করা হয় বলে কমিশন সূত্রে খবর।
জানা যাচ্ছে, দার্জিলিংয়ে ৬ কোম্পানি , শিলিগুড়িতে ৩ কোম্পানি , কালিম্পংয়ে ৩ কোম্পানি, কোচবিহারে ৯ কোম্পানি, আলিপুরদুয়ারে ৫ কোম্পানি, জলপাইগুড়িতে ৭ কোম্পানি, ইসলামপুরে ৫ কোম্পানি, রায়গঞ্জে ৬ কোম্পানি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ১০ কোম্পানি, মুর্শিদাবাদে ৮ কোম্পানি, জঙ্গিপুরে ৮ কোম্পানি, কৃষ্ণনগরে ৬ কোম্পানি, রানাঘাটে ৬ কোম্পানি, হাওড়ায় ৭ কোম্পানি, হাওড়া রুরালে ৮ কোম্পানি, হুগলি রুরালে ৬ কোম্পানি, চন্দননগরে ৮ কোম্পানি, রাবাসতে ৬ কোম্পানি, বনগাঁয় ৪ কোম্পানি, বসিরহাটে ৭ কোম্পানি, বারাকপুরে ৯ কোম্পানি, বিধাননগরে ৪ কোম্পানি, বারুইপুরে ৫ কোম্পানি, ডায়মন্ড হারবারে ৬ কোম্পানি, সুন্দরবনে ৪ কোম্পানি, পূর্ব বর্ধমানে ৮ কোম্পানি, এডিপিসি ৭ কোম্পানি, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭ কোম্পানি, ঝাড়গ্রামে ৫ কোম্পানি, বাঁকুড়ায় ৭ কোম্পানি, পুরুলিয়ায় ৫ কোম্পানি এবং বীরভূমে ৭ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে দফায় দফায় রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। যেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাহিনী আসলে কোনওভাবে তা বসিয়ে রাখা যাবে না। এমনকী দ্রুত রুট মার্চ করতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কোথায় কোথায় বাহিনীকে মোতায়েন করা হবে সেই তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়।
বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকদিন আগেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজিপির কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। যেখানে ভোটের আগে প্রাথমিকভাবে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের কথা জানানো হয়। চিঠিতে জানানো হয়, প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানির মধ্যে সিআরপিএফ জওয়ান থাকবে ১১০ কোম্পানি , বিএসএফ থাকছে ৫৫ কোম্পানি, সিআইএসএফ ২১ কোম্পানি, আইটিবিপি ২৭ কোম্পানি ও এসএসবি ২৭ কোম্পানি। বাকি ২৪০ কোম্পানি আধাসেনা আসবে ১০ মার্চ। সেই সময় রাজ্যে আসবে ১২০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ৬৫ কোম্পানি বিএসএফ, ১৬ কোম্পানি সিআইএসএফ, ২০ কোম্পানি টিআইবিপি, ১৯ কোম্পানি এসএসবি।
