অনুপ্রবেশ ইস্যুতে জিরো টলারেন্স বিজেপি সরকারের। রাজ্যে পালাবদলের পরেই বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এর দু'সপ্তাহের মধ্যেই বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ, বুধবার ২৭ কিলোমিটার জমি কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হল। এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এদিন পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকেও তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করতে রাজ্যের কাছে আগেই জমি চেয়েছিল বিএসএফ। কিন্তু তোষণের রাজনীতির জন্য তা দেওয়া হয়নি।
দু'সপ্তাহের মধ্যেই বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ, বুধবার ২৭ কিলোমিটার জমি কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হল।
বিএসএফকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে শুভেন্দু। ছবি- কৌশিক দত্ত।
বিএসএফকে সঙ্গে নিয়েই এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ''ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত ৪ হাজার কিলোমিটার। ২২০০ কিমি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গেই। এরমধ্যে ১৬০০ কিমি কাঁটাতার রয়েছে। বাকি ৬০০ কিমি কাঁটাতার অসম্পূর্ণ।'' তাঁর কথায়, আগের সরকার চাইলেই ৫৫৫ কিমি জমি দিতে পারত। কিন্তু শুধুমাত্র তুষ্টিকরণের রাজনীতির জন্য তা তুলে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। তবে এদিন ২৭ কিমি এলাকাকে সুরক্ষিত করার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ''এটা সবেমাত্র সূচনা। আমাদের দক্ষ আধিকারিকেরা কিছু দিনের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ করবেন এবং বিএসএফকে সবরকম সাহায্য করবেন।''
এদিন অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগের সরকারকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, ''আগের সরকার জমি না দেওয়ায় আমাদের রাজ্য খুবই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে।'' মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলাজনিত অপরাধ, লাভ জিহাদ, জোর করে ধর্মান্তর, নারী নিরাপত্তা কিংবা অসামাজিক কাজকর্মের ক্ষেত্রে যুক্ত যারা ধরা পড়েছেন, তাঁদের বড় অংশই বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। এই অবস্থায় যে কোনওভাবেই নিরাপত্তার সঙ্গে আপস না তা এদিন বিএসএফকে জমি দিয়ে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলে রাখা প্রয়োজন, বঙ্গ প্রচারে এসে বারবার অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সুর চড়িয়ছিলেন মোদি-অমিত শাহ। এমনকী রাজ্যে পালাবদল হলে সীমান্ত 'সিল' করে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি তাঁরা দিয়েছিলেন।
