'নব্য' বিজেপিদের বাড়বাড়ন্ত রুখতে গোড়া থেকে সচেষ্ট রাজ্যের শাসকদল। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে সতর্ক করেছেন। কিন্তু তারপরও জেলায় জেলায় গেরুয়া শিবিরের সদস্যদের বিরুদ্ধে হুমকি, তোলাবাজির মতো অভিযোগ উঠছে ভুরি ভুরি। অভিযোগ পেয়ে দল তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থাও নিচ্ছে। এবার 'তোলাবাজ'দের চিহ্নিত করে তালিকা তৈরির দায়িত্ব বিরোধী দলকেও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নবান্নে 'আসল' তৃণমূলের বিধায়কদের বৈঠকে এই প্রসঙ্গ ওঠে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বলেছেন যে কোন বিজেপি কর্মীরা এমন অন্যায় করছে, বিধানসভা অনুযায়ী সেই তালিকা তৈরি করে তাঁকে জমা দিতে। তা দেখে ব্যবস্থা নেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলকে পরামর্শ দেন, বিধানসভা এলাকা অনুযায়ী কোন বিজেপি কর্মীরা তৃণমূলের উপর এমন চাপ দিচ্ছে, তোলাবাজি করছে, কার কাছে কত টাকা চাইছে, এসবের তালিকা বানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দিতে। তিনি ব্যবস্থা নেবেন।
৪ মে রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর অনেক জায়গায় দেখা গিয়েছে, তৃণমূল ছেড়ে সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি হয়ে গিয়েছেন রাজনৈতিক কর্মীরা। নিজেদের তাঁরা এখন শাসক শিবিরের বলে পরিচয় দেন। অভিযোগ, রাজনৈতিক রং বদলে ফেললেও তৃণমূলের স্বভাব ছেড়ে বেরতে পারেননি এঁরা। বরং নিজেদের এলাকায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপর টাকা আদায়ে চাপ সৃষ্টি করা থেকে হুঁশিয়ারিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে উঠে আসছে এই 'নব্য' বিজেপি সদস্যদের নাম। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই সমস্যার কথা উত্থাপন করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামানরা। জানানো হয়, এতে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা বিরক্ত, আতঙ্কিত।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রভোট নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন বলে জানান। তাঁর বক্তব্য, ‘‘৯ বছর ধরে এখানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ। আমরা দ্রুত তা করানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখব। এভাবে ভোট বন্ধ রাখা 'ফ্যাসিজম'। আমরা চাই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছাত্র সংসদ নির্বাচন হোক।''
ঋতব্রতর দাবি, তাঁদের কথা বেশ গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই বিরোধী দলকে তিনি গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের পরামর্শ দেন, বিধানসভা এলাকা অনুযায়ী কোন বিজেপি কর্মীরা তৃণমূলের উপর এমন চাপ দিচ্ছে, তোলাবাজি করছে, কার কাছে কত টাকা চাইছে, এসবের তালিকা বানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দিতে। তিনি ব্যবস্থা নেবেন। এনিয়ে ঋতব্রতর বক্তব্য, ‘‘অন্যায় রুখতে প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী তো শাসক-বিরোধী সকলের। তাই অন্যায় হলে উভয়পক্ষের বিরুদ্ধেই কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।''
শনিবার বিধানসভার সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রভোট নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন বলে জানান। তাঁর বক্তব্য, ‘‘৯ বছর ধরে এখানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ। আমরা দ্রুত তা করানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখব। এভাবে ভোট বন্ধ রাখা 'ফ্যাসিজম'। আমরা চাই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছাত্র সংসদ নির্বাচন হোক।''
