সংসারে শাশুড়ি আর বউমা যেন টম অ্যান্ড জেরি। কখনও দারুণ ভাব। আবার কখনও অম্ল-মধুর খুনসুটি। তবে এই টক-ঝাল-মিষ্টি সম্পর্কের সমীকরণটা বজায় রাখা কিন্তু বেশ কঠিন। একে অপরের প্রতি টান থাকলেও অনেক সময় বেফাঁস এক-আধটা কথা এই সুন্দর সম্পর্কে তিক্ততা এনে দেয় বইকি! তাই শাশুড়ির সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখতে কিছু কথা স্রেফ মনের মধ্যেই রাখুন। এতে সংসারের শান্তি অটুট থাকবে। কোন কোন কথা? মাথায় রাখতে হবে সবসময়।
প্রথমেই আসে রান্নাঘরের দখলদারি। হতেই পারে আপনার শাশুড়িমায়ের হাতের রান্না সেকেলে। কিন্তু ভুলেও তাঁর সামনে রান্নার সমালোচনা করবেন না। বিশেষ করে 'আপনার ছেলে আমার হাতের রান্না বেশি পছন্দ করে'—এই একটি বাক্য কিন্তু যুদ্ধের দামামা বাজানোর জন্য যথেষ্ট। মনে রাখবেন, মা হিসেবে তাঁর হাতের স্বাদই ছেলের কাছে প্রথম ভালোবাসা। সেই আবেগে আঘাত না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
শাশুড়ির দেওয়া উপহার নিয়েও সাবধান। হতে পারে তাঁর দেওয়া শাড়ি বা গয়না আপনার বর্তমান ফ্যাশনের সঙ্গে একদমই যায় না। কিন্তু ওঁর সামনে কখনও সেটির খুঁত ধরবেন না। বরং উপহারটি যে ওঁর স্নেহের দান, সেটা বুঝিয়ে দিন। তাঁর সামনে সেই জিনিসটি যত্ন করে ব্যবহার করলে সম্পর্ক অনেক বেশি ঋদ্ধ হয়।
আরেকটি বড় ভুল হল নিজের বাপের বাড়ির সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির তুলনা করা। আপনার বাপের বাড়ির সব কিছু শ্রেষ্ঠ হলেও সেটি বার বার শাশুড়ির সামনে জাহির করবেন না। এতে তিনি অপমানিত বোধ করতে পারেন। প্রতিটি বাড়ির আলাদা আলাদা নিয়ম থাকে, সেটাকে সম্মান জানানোই শ্রেয়।
সবশেষে, স্বামী-স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত বা যৌনজীবন নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে ভুলেও কোনও আলোচনা করতে যাবেন না। এটি যেমন ওঁর জন্য অস্বস্তিকর, তেমনি আপনার ইমেজের জন্যও ক্ষতিকর। এছাড়া 'আমি আপনার ছেলেকে আপনার চেয়েও বেশি চিনি'—এই দাবিটা ভুলেও করবেন না। এটা যেকোনও মায়ের জন্য বেশ যন্ত্রণাদায়ক।
আসলে শাশুড়ি-বউমার সম্পর্কটা অনেকটা কাচের মতো। একটু যত্ন আর সামান্য গোপনীয়তা বজায় রাখলে সম্পর্কটা হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। তাই কিছু কথা না বলাই থাক, সংসার তাতে সুখের হবে।
