ছোটরা কেবল মুখের কথা শুনে শেখে না, বরং চোখে দেখে শেখে। আর ছোট থেকে বড় হওয়ার যাত্রায় সবথেকে বেশি তারা দেখতে পায় বাবা-মাকেই। একজন অভিভাবকের প্রতিটি ছোট অভ্যাস—কথা বলার ধরন, রাগ সামলানোর উপায়, অন্যদের সঙ্গে ব্যবহার কিংবা নিজের প্রতি দায়িত্ববোধ—সবই সন্তানের ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। তাই যদি মনে করেন যে বারবার বলার পরেও বাড়ির খুদেটির সুঅভ্যাস তৈরি হচ্ছে না, তবে অবশ্যই খেয়াল করতে হবে বড়দের অভ্যেসের দিকে। নিজের অজান্তেই আপনি এমন কোনও ভুল করছেন না তো (3 Everyday Habits of Parents Are Shaping Child's Future)?
বাবা-মা দুই হাত খুলে খরচ করলে সন্তানও তাই শিখবে।
১। আপনি সারাক্ষণ মোবাইল ফোনে ডুবে থাকেন না তো?
বড়রা যদি সারাক্ষণ ফোনে ব্যস্ত থাকেন, কিন্তু ছোটদের ক্ষেত্রে ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চাপান, তবে তা কার্যকর হবে না বলাই বাহুল্য। খাওয়ার সময় বাড়ির বড়রা সকলেই চেষ্টা করুন ফোন দূরে রাখার। সন্তানের সঙ্গে কথা বলার সময় সম্পূর্ণ মনোযোগ দিন সেদিকে। প্রতিদিন কিছুটা সময় তুলে রাখুন ফ্যামিলি টাইম হিসেবে। এতে শিশু বাস্তব সম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে শেখে এবং তার অতিরিক্ত স্ক্রিন নির্ভরতা কমে।
২। আপনি কি প্রায়শই খরচ করেন?
বাবা-মায়েরা কষ্টার্জিত টাকা নানা শখ পূরণে খরচ করবেন অবশ্যই, তবে সন্তানের কাছে তা কোনও ভুল বার্তা দিচ্ছে কি-না, সেদিকে খেয়াল করতেই হবে। সন্তান যদি দেখে, তার অভিভাবকরা কথায় কথায় টাকা ওড়াচ্ছে, তবে সে নিজেও অর্থের মূল্য বোঝে না। তার কোনও চাহিদা পূরণে বাবা-মা অসামর্থ্য হলে, সে পরিস্থিতি বুঝবার বদলে রেগে ওঠে। তাকে সঞ্চয়ের গুরুত্ব বোঝান। অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করুন। ছোট ছোট আর্থিক সিদ্ধান্তে সন্তানকে যুক্ত করুন।
বাবা-মা যদি পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত থাকেন, তবে ছোটরাও তাই শিখবে।
৩। পরিবারের সদস্যদের প্রতি আপনার আচরণ কেমন?
হতেই পারে পরিবারের কোনও সদস্যের সঙ্গে বনিবনার সমস্যা রয়েছে আপনার। কিন্তু সে কথা সবক্ষেত্রে সন্তানকে বুঝতে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তিমানুষ হিসেবে, তার জগতটি গড়ে ওঠার কথা নিজস্ব ছন্দে। আপনার পছন্দ অপছন্দ চাপিয়ে দিলে সে যে কেবল না জেনেই কোনও মানুষকে অপছন্দ করতে শুরু করবে, তাই নয়। সামগ্রিকভাবে পারস্পরিক সম্মান ও মূল্যবোধের কোনও গুরুত্বই থাকবে না তার কাছে। তাই ছোটদের সামনে বড়দের উচিত বিবাদ জাতীয় বিষয় যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা।
তাই দুরন্ত শিশুটিকে মূল্যবোধে বলীয়ান করে তুলতে কেবল শাসন যথেষ্ট নয়। তার চাইতেও অনেক বেশি জরুরি, বাবা-মায়ের নিজেদের আচরণগত ত্রুটির দিকে নজর দেওয়া। অভ্যেসের ছোটখাটো বদলই বৃহত্তর ক্ষেত্রে সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ গড়ে উঠবে।
