গরমে বাড়ে মাথাব্যথা। যেন খুব স্বাভাবিক এক সমস্যা। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই মাথায় একটা চাপধরা ব্যথা লেগেই থাকে। অনেকেই এটাকে স্রেফ গরমের জন্য বলে এড়িয়ে যান। কখনও সেটা ঠিক, কিন্তু সব সময় নয়।
সমস্যা হচ্ছে, সব মাথাব্যথা এক ধরনের নয়। অনেক ক্ষেত্রেই গরমে এই মাথাব্যথার আড়ালে লুকিয়ে থাকে মাইগ্রেন। আর এই দুই সমস্যার চিকিৎসা ও সামলানোর পদ্ধতিও ভিন্ন।
মাথাব্যথার ধরন বোঝা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত
গরমের মাথাব্যথা বনাম মাইগ্রেন: পার্থক্য কোথায়
মাথাব্যথার ধরনই প্রথম সূত্র দেয়। গরমে হওয়া মাথাব্যথা সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি হয়, চাপধরা ধরনের অনুভূতি থাকে এবং জলপান, বিশ্রাম বা ঠান্ডা জায়গায় থাকলে তা কমে যায়।
অন্যদিকে, মাইগ্রেন সম্পূর্ণ আলাদা। এতে ব্যথা তীব্র হয়, দপদপ করে, সাধারণত মাথার একপাশে বেশি হয়। সঙ্গে থাকতে পারে বমি বমি ভাব, বমি, আলো বা শব্দে অস্বস্তি। যদি ব্যথা বারবার ফিরে আসে, কাজকর্মে বাড়ে বা এই লক্ষণগুলো দেখা যায়, তাহলে সেটি মাইগ্রেন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
কেন গরমে মাথাব্যথা বাড়ে?
একটি নির্দিষ্ট কারণ নয়, বরং একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করে। ডিহাইড্রেশন বা শরীরে জলশূন্যতা সবচেয়ে বড় কারণ। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে জল ও ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যায়, যা মাথাব্যথা ডেকে আনে। এছাড়াও কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে-
- রোদে দীর্ঘ সময় থাকা
- অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া
- গরমের কারণে ঘুম কম হওয়া
- অতিরিক্ত কফি বা ঠান্ডা পানীয় পান
- যাঁদের আগে থেকেই মাইগ্রেনের সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল আলো ও তাপমাত্রা ট্রিগার হিসেবে কাজ করে।
গরমে মাথাব্যথা না মাইগ্রেন? ছবি: সংগৃহীত
মাইগ্রেন শুরুর লক্ষণ: আগে থেকেই বুঝবেন কীভাবে?
মাইগ্রেন হঠাৎ করে শুরু হয় না। বেশিরভাগ সময় ব্যথা শুরু হওয়ার আগেই কিছু সংকেত দেয়। এই লক্ষণগুলো আগে থেকে চিনতে পারলে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু সাধারণ লক্ষণ যেমন-
- হঠাৎ মেজাজ বদল, বিরক্তি বা ক্লান্তি
- খিদে বেড়ে যাওয়া বা একেবারে খিদে না হওয়া
- ঘাড়ে অস্বস্তি
- আলো, শব্দ বা গন্ধে অস্বস্তি
- চোখে জিগজ্যাগ লাইন বা ঝাপসা দেখা
গরমে মাথাব্যথা ঠেকাতে কী করবেন?
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নিয়মিত কিছু অভ্যেস মেনে চলা। যেমন-
- সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ জলপান
- দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে রোদ এড়িয়ে চলুন
- বাইরে বের হলে সানগ্লাস, টুপি বা ছাতা ব্যবহার করুন
- খাওয়ার সময় ঠিক রাখুন, খাবার স্কিপ করবেন না
- দরকার পর্যাপ্ত ঘুম
- কফি ও প্রক্রিয়াজাত ঠান্ডা পানীয় যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন
- যোগব্যায়াম বা মেডিটেশনের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমান
জরুরি জলপান। ছবি: সংগৃহীত
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
সব মাথাব্যথা বিপজ্জনক নয়, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত-
- হঠাৎ খুব তীব্র ব্যথা শুরু হলে
- জ্বর, ঘাড়ে অস্বস্তি বা খিঁচুনি থাকলে
- হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া বা কথা বলতে অসুবিধা
- মাথায় কোনও আঘাতের পর ব্যথা শুরু হলে
- ওষুধে না কমলে বা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে
এই ধরনের লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।
গরমের সময় মাথাব্যথা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু মাথাব্যথার ধরন বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত জলপান করুন, রোদ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন, আর শরীরের সমস্যার দিকে নজর রাখুন। অনেক সময় এতেই বড় সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
