সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: চাপ বাড়ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। কোণঠাসা করছিল বিজেপি (BJP)। জোটের অন্দর থেকেও উঠছিল প্রশ্ন। সোমবার দুর্নীতির অভিযোগে বম্বে হাই কোর্ট তদন্তের নির্দেশ দিতেই পদত্যাগ করলেন মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ (Anil Deshmukh)। মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। এর ফলে মহারাষ্ট্রের শিব সেনা-কংগ্রেস-এনসিপি জোট সরকার যে নতুন করে সংকটের মধ্যে পড়ল, সেটা বলাই বাহুল্য।
সম্প্রতি মুকেশ আম্বানির বাড়ির কাছে বিস্ফোরক ভরতি গাড়ি উদ্ধার হয়। সেই ঘটনার তদন্ত করছিলেন মুম্বইয়ের তৎকালীন পুলিশ কমিশনার পরমবীর সিং (Param Bir Singh)। কিন্তু নিরাপত্তায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে পরমবীরকে সরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশমুখ। তাঁকে বদলি করা হয় হোমগার্ডে। এর কয়েকদিনের মধ্যেই চিঠি লিখে অনিল দেশমুখের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন পরমবীর। জানান, ধৃত শচীন ওয়াজেকে ব্যবহার করে মাসে ১০০ কোটি টাকা তোলাবাজির ব্যবস্থা করেছিলেন দেশমুখ। হোটেল-রেস্তরাঁ-ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে মাসে ৪০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। বাকি ৬০ কোটি অন্য উপায়ে জোগাড় হত বলে জানান পরমবীর। মুম্বইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে (Uddhav Thakray) এবং শরদ পওয়ারকে চিঠি দিয়ে গোটা বিষয়টি জানিয়েও কোনও সুফল তিনি পাননি।
[আরও পড়ুন: অসমে ইভিএম কাণ্ডের জের! ভোটিং মেশিনের নিরাপত্তা নিয়ে আরও কড়া কমিশন]
খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা এই দুর্নীতির অভিযোগ, মহারাষ্ট্রের রাজনীতিকে রীতিমতো আলোড়িত করে দেয়। বিজেপি অনিল দেশমুখের পদত্যাগের দাবি জানায়। যদিও শরদ পওয়ার এবং উদ্ধব ঠাকরে এতদিন তাঁর পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন। পরমবীরের এই অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বলেই দাবি করছিল মহারাষ্ট্রের জোট সরকার। কিন্তু সোমবার বম্বে হাই কোর্ট অনিল দেশমুখের বিরুদ্ধে প্রাক পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিতেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের দাবি, ভাবমূর্তি বাঁচাতে সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধবের নির্দেশেই পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন অনিল। যা আগামী দিনে এনসিপি, শিব সেনা জোট সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।