ইতিহাস গড়ে ছাব্বিশের ভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। বাংলায় এখন 'ডবল ইঞ্জিন' সরকার। ফলে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রকল্পগুলির সুবিধা দ্বিগুণ হওয়ার আশা জেগে উঠেছে। সেইসঙ্গে উঠছে আরও বেশ কিছু প্রশ্ন। মমতা সরকারের সামাজিক প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ কী? এবার কি তবে কেন্দ্রের বকেয়া টাকা মিলবে? তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা কেন্দ্রের কোন কোন প্রকল্পের সুবিধা মিলবে, তা নিয়ে। আয়ুষ্মান ভারত, জল জীবন মিশন, মাতৃশক্তি ভরসা, যুবশক্তি ভরসার মতো প্রকল্পগুলি কবে থেকে লাগু হবে? এনিয়েও তুঙ্গে আলোচনা। দেখে নেওয়া যাক, কোন প্রকল্পের কী সুবিধা -
আয়ুষ্মান ভারত: কেন্দ্রের স্বাস্থ্যবিমা আয়ুষ্মান ভারত। এই প্রকল্পের অধীনে দারিদ্রসীমার নিচে থাকা পরিবারগুলি প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা সুরক্ষা পাবেন। সোমবার বঙ্গবিজয়ের পর দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, “বাংলায় মহিলারা এখন একটি নিরাপদ পরিবেশ পাবেন এবং যুবকরা কর্মসংস্থান পাবেন। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে সবুজ সংকেত দেওয়া হবে।” উল্লেখ্য, রাজ্যে এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের তরফে সমতুল্য প্রকল্প ছিল স্বাস্থ্যসাথী। বাংলার প্রতি পরিবারের মহিলা সদস্যের নামে এই কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়।
জল জীবন মিশন: ট্যাপকলের মাধ্যমে প্রতি ঘরে ঘরে জলের সংযোগ হয় এই প্রকল্পের আওতায়। প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং নথিপত্র তৈরিতে দেরি হওয়ায় রাজ্য ২০১৯-২০ ও ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে কেন্দ্রের বরাদ্দ ২৪,৬৪৫ কোটি টাকার ৫৩ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে। এবার ডবল ইঞ্জিন সরকারে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন রাজ্যবাসী। এতদিন ঘরে ঘরে নলবাহিত জল সরবরাহ হতো রাজ্যের তৃণমূল সরকারের অধীনে। প্রতি ঘরে তা পৌঁছে দেওয়া ছিল তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা: এর আওতায় নির্দিষ্ট আয় করা পরিবারের মাথার উপর ছাদ গড়ে দেয় কেন্দ্র। বাংলায় সমতুল্য প্রকল্পের নাম 'বাংলার বাড়ি'। এখনও পর্যন্ত তার আওতায় শহর ও গ্রামাঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার বেশিরভাগ কাজই হয়ে গিয়েছে। বাকি খানিকটা। ক্ষমতায় এলে সেই কাজ সম্পূর্ণ করার প্রতিশ্রুতি ছিল তৃণমূলের। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সুবিধা পেতে চলেছেন রাজ্যবাসী।
প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা: কেন্দ্রের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আর্থিক সহায়তা, বিমা এবং আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে মৎস্যজীবীদের। যদিও রাজ্য 'সমুদ্রসাথী' নামে প্রকল্পের সুবিধা ইতিমধ্যেই পান মৎস্যজীবীরা। এককালীন ৫০ হাজার টাকা এবং সুরক্ষায় একটি কার্ডও দেওয়া হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা লাগু হলে আরও কিছু সুবিধা মিলবে বলে আশা।
যুবশক্তি ভরসা: এই প্রকল্পের আওতায় বেকার যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর হওয়ার জন্য মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করেছে কেন্দ্রে। তবে সবাই এর সুবিধা পাবেন না। তার জন্য নির্দিষ্ট শর্ত আছে। রাজ্যে বিদায়ী তৃণমূল সরকার এপ্রিল মাসেই 'যুবশ্রী' প্রকল্প চালু করেছে। এতে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সিরা কর্মহীনরা মাসে ১৫০০ টাকা করে হাতে পান।
মাতৃশক্তি ভরসা: এতে নির্দিষ্ট আয়যুক্ত পরিবারের মহিলারা মাসে ৩ হাজার টাকা পাবেন বলে ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও তৃণমূল সরকার গত পাঁচ বছরে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' নামে যে প্রকল্প চালায়, তাতে রাজ্যের প্রত্যেক মহিলা মাসে ১৫০০ টাকা করে হাতে পান। এটিই সম্ভবত তৃণমূল সরকারের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রকল্প ছিল এতদিন। এরাজ্যে মাতৃশক্তি ভরসা যোজনা চালু হলে এই অর্থ দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী শ্রী স্কুল: এর সমতুল্য প্রকল্প এ রাজ্যে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া 'কন্যাশ্রী'। এর আওতায় রাজ্যের প্রত্যেক কন্যার শিক্ষা নিখরচায় পাওয়া যায়। প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি এবং পরবর্তীতে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষা মেলে বিনামূল্যে। এছাড়া এককালীন ২৫ হাজার টাকাও পাওয়া যায়। এছাড়া নবম, দশম বা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির 'সবুজসাথী' প্রকল্পের সাইকেল পেয়ে থাকে ছাত্রীরা। এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী বাংলার সবচেয়ে বেশি ছাত্রছাত্রী।
কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, বাংলায় এতদিন তৃণমূল সরকার রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে এসব প্রকল্পের সুবিধা পেতে দেয়নি। এবার এতদিনের বঞ্চনার হয়তো অবসান ঘটবে।
