ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে জনমত নিজেদের দিকে ঘোরাতে মরিয়া বিজেপি। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই প্রকাশ পেতে পারে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহার। আগামী সপ্তাহেই ফের রাজ্যে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতেই ২৭ বা ২৮ মার্চ বাংলার নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশের সম্ভাবনা গেরুয়াশিবিরের। উল্লেখ্য, ২০ মার্চ ইস্তেহার প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে প্রকাশিত হয় 'দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা'। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষার মিশেলে ছাব্বিশের নির্বাচনী ইস্তেহারে এবারও কল্পতরু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা স্বাভাবিকভাবেই চাপ বাড়িয়েছে মোদি-শাহর। সূত্রের খবর, মমতার দেখানো পথেই বাংলা জয়ের ছক গেরুয়াশিবিরের। ফলে তাদের ইস্তেহারেও থাকছে না নতুনত্বের ছোঁয়া। 'দিদি'র প্রকল্পগুলোর নাম বদলে 'ব্যালটের ব্যটেল' জিততে চাইছেন শুভেন্দু-সুকান্তরা।
সূত্রের খবর, ভোটের (Assembly Elections 2026) বাংলায় চলতি সপ্তাহেই নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করতে চলেছে বিজেপি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাস্টারস্ট্রোক ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। বাংলার মহিলাদের জন্য মাসিক ভাতা ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এবারের বিধানসভা ভোটেও বাংলার মহিলাদের মন জিততে তৃণমূলের ট্রাম্পকার্ডই ব্যবহার করছে বিরোধী পক্ষ বিজেপি। সূত্র মারফত খবর, বিজেপির ইস্তেহারে থাকছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অনুকরণেই 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার'। বিজেপির দাবি, ক্ষমতার এলে এই প্রকল্পের আওতায় মাসিক ৩০০০ টাকা ভাতা পাবেন মহিলারা। এখানেই শেষ নয়, বাংলার যুবদের মন পেতে রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্পের অনুকরণে 'যুবশক্তি' প্রকল্পে মাসিক ৩০০০ টাকা বেকারভাতার উল্লেখ থাকতে পারে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারে। এছাড়াও পদ্মশিবিরের ইস্তেহারে উত্তর থেকে দক্ষিণ গতিশীল হাইওয়ে তৈরির প্রতিশ্রুতি। ক্ষমতায় এলে বেহালা-বালুরঘাটের বিমান পরিষেবা চালু করা সহ গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের আশ্বাস দিতে পারে বঙ্গ বিজেপি।
বিজেপি বলছে, পশ্চিমবঙ্গের ঋণের বোঝা ৮ লক্ষ কোটি ছাড়িয়েছে। বাংলার অর্থনীতি চাঙ্গা করতে কর্মসংস্থান নিয়েও একাধিক প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে তাদের ইস্তেহারে। বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বঙ্গ বিজেপির দাবি, বাংলার প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে। সরকার গড়লে পরিযায়ীদের বাংলায় ফেরাতে কর্মসংস্থানই হবে প্রধান লক্ষ্য। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বাংলায় আসা ভিনরাজ্যের পরিযায়ীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। বাংলায় দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা ও নারী সুরক্ষা সংক্রান্ত একাধিক প্রতিশ্রুতি জায়গা পেয়েছে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারে বলে খবর। তবে বাংলার বুকে 'বাংলার মেয়ে'কে কতটা চ্যালেঞ্জ ছুড়তে পারবেন মোদি-শাহরা? ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা কি গেরুয়া পালে হাওয়া দেবে? নাকি আবারও সবুজ ঝড়ে ধরাশায়ী হবে পদ্ম-গড়? উত্তর মিলবে ৪ মে।
