বিহারে মোদির ব্রিগেডের সভায় আসা বিজেপি কর্মীকে হেনস্থা-মারধর নিয়ে এবার গর্জে উঠল তৃণমূল। এদিন দলের তরফে নির্যাতিতের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে তাঁর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে তা তুলে ধরেছেন ওই ব্যক্তি। সেই পোস্টেই ফের বিজেপিকে তুলোধোনা করেছে তৃণমূল। বলা হয়েছে, 'বিজেপি তাদের প্রতিটা কাজে, সিদ্ধান্তে বুঝিয়ে দিচ্ছে ওরা বাংলা ও বাঙালিকে পছন্দ করে না।'
১৫ মার্চ ব্রিগেডে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা সেখানে হাজির হয়েছিলেন তাঁর বক্তব্য শুনতে। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন, বিজেপি কর্মীর নাম সোমনাথ বর্মন। তিনি উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের ভলকাবারোবিশা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বারুইপাড়া এলাকার বাসিন্দা। জানা যায়,প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেন ধরেছিলেন তিনি। কিন্তু ভুল করে অন্য ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে বিহারের কিষাণগঞ্জ স্টেশনে নেমে পড়েন তিনি। তারপরই ঘটে দুঃসহ ঘটনা। অভিযোগ, বিহারে তাঁকে ছেলেধরা সন্দেহে পাকড়াও করা হয়। বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত পুলিশ তাঁকে উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তিনদিন পুলিশ হেফাজতেই ছিলেন। চোট-আঘাত নিয়েই কোনওরকমে তিনি নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছেন।
সোশাল মিডিয়ায় তৃণমূলের তরফে লেখা হয়েছে, 'ব্রিগেডে নরেন্দ্র মোদির সভায় আসা বিজেপি সমর্থককেই যদি বিজেপি শাসিত রাজ্যে গণপিটুনির শিকার হতে হয়, তবে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে আমবাঙালির কী পরিণতি হবে বুঝতে পারছেন?'
সোমবার সোমনাথ বর্মনের ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে তৃণমূলের সোশাল মিডিয়ায়। সেখানে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছে তা বর্ননা করতে দেখা যায় যুবককে। সেই ভিডিওর ক্যাশনেই বিজেপিকে আবারও চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছে তৃণমূল। লেখা হয়েছে, 'ব্রিগেডে নরেন্দ্র মোদির সভায় আসা বিজেপি সমর্থককেই যদি বিজেপি শাসিত রাজ্যে গণপিটুনির শিকার হতে হয়, তবে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে আমবাঙালির কী পরিণতি হবে বুঝতে পারছেন? বিজেপি তাদের প্রতিটা কাজে, সিদ্ধান্তে বুঝিয়ে দিচ্ছে ওরা বাংলা ও বাঙালিকে পছন্দ করে না। তাই মোদির সভায় আসা কুমারগ্রামের দিনমজুর সোমনাথ বর্মণ ভুল করে ট্রেনে চেপে বিহারের কিষানগঞ্জে পৌঁছালে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। স্রেফ বাঙালি হওয়ায় এই দিনমজুর বিজেপি সমর্থককে আজ বিজেপির হাতেই আক্রান্ত হতে হল।'
