ভোটের মুখে কলকাতা পুলিশে (Kolkata Police) বড়সড় রদবদল। বেশ কিছু থানার ওসিদের বদলি করল কমিশন। পার্কস্ট্রিট থানার দায়িত্বে ছিলেন হীরক দলপতি। তাঁকে গোয়েন্দা দফতরে বদলি করা হল। পার্ক স্ট্রিট থানার নতুন ওসি করা হল লালবাজারের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের নীলকান্ত রায়কে । শ্যামপুকুর থানার অতিরিক্ত ওসি রাজ কুমার মিশ্রকে গড়িয়াহাট থানায় আনা হয়েছে। অন্যদিকে বিজয়গঞ্জ বাজার থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এন্টালি থানার অতিরিক্ত ওসি মনীশ সিংহকে। এসটিএফ থেকে মনোজ দত্তকে ফিরিয়ে চেতলা থানার নতুন ওসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
বদলির পর বদলি। একের পর এক প্রশাসনিক আমলার বদলি নিয়ে চাপানউতোর ছিলই। পুলিশের উপরতলায় বদলি নিয়েও টানাপোড়েন কম হয়নি। এবার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কলকাতা পুলিশে বড়সড় রদবদল। লালবাজারের পক্ষ থেকে কমিশনারের ১৮১ ও ১৮২ নম্বর অর্ডার জারি করে ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার একাধিক আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। এই অর্ডার অনুযায়ী, শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বা ওসি-দের সরিয়ে ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট, এসটিএফ বা স্পেশাল ব্রাঞ্চের মতো বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পার্ক স্ট্রিট থানার ওসি হীরক দলাপতি এবং বিজয়গঞ্জ বাজার থানার ওসি অংশুমান রায়কে লালবাজারের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টে বদলি করা হয়েছে। একইভাবে চেতলা থানার ওসি অমিতাভ সরকারকে এসটিএফে পাঠানো হয়েছে।
হেয়ার স্ট্রিট ও ঠাকুরপুকুর থানার ওসি পদের ক্ষেত্রেও রদবদল হয়েছে। এই দুই থানার বর্তমান ওসি লোপসাং তশেরিং ভুটিয়া এবং রাজীব সাহুর মধ্যে পারস্পরিক বদলি হয়েছে। উল্লেখ্য, এই নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে গত ২৯ মার্চের ১৭৪ ও ১৭৫ নম্বর অর্ডারেও কিছু আংশিক পরিবর্তনের পাশাপাশি কিছু সংশোধনও এনেছে লালবাজার।
প্রসঙ্গত, অমিত শাহের উপস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে রোড শো ঘিরে অশান্তির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভবানীপুর। সেই কাণ্ডের পরই রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে চিঠি দিয়ে ভবানীপুরের ঘটনায় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার কারণে চার পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল। একই সঙ্গে কমিশনের নির্দেশ ছিল, শীঘ্রই ওই চার জায়গায় অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে। এই আবহে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা পুলিশের ৬ থানার ওসিদের বদল করল কমিশন।
