ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে (WB Assembly Election 2026) তৃণমূল কংগ্রেস যখন 'বাঙালি অস্মিতা'কে হাতিয়ার করেছে, তখন বাঙালি সংস্কৃতি আত্মস্থ করতে প্রচারের ময়দানে নিত্যনতুন 'স্টান্ট' বিজেপির। দিন কয়েক আগেই প্রচারের মাঝে নরেন্দ্র মোদির হাতে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতি তুলে দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এরপর ঝালমুড়ি চেখে, গঙ্গায় নৌকাবিহার করে ভায়া বেলুরমঠ হয়ে এবার বাঙালির একমেবাদ্বিতীয়ম ম্যাটিনি স্টার মহানায়ক শরণে মোদি! এককথায়, ছাব্বিশের ভোটমহারণে বাংলায় পদ্ম ফোটাতে মরিয়া বিজেপি 'মাছ টু ম্যাটিনি'তে কিছুতেই শান দিতে বাকি রাখল না!
এর আগে পানিহাটির 'বিজয় সংকল্প সভা'য় প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর সময়ে শমীক মোদির হাতে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ছবি তুলে দিয়েছিলেন। এবার বাঙালির মন পেতে 'হাতিয়ার' মহানায়ক।
কলকাতায় রোড শোয়ে। ছবি: কৌশিক দত্ত
রবিবাসরীয় বিকেলে উত্তর কলকাতার রোড শোয়ে উপহার স্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর হাতে উত্তম কুমারের ছবি তুলে দেন শমীক ভট্টাচার্য। এদিন বাংলায় একগুচ্ছ প্রচার কর্মসূচী ছিল মোদির। মতুয়াগড়ে প্রচার সেরে মোদি যখন বি কে পাল অ্যাভিনিউয়ে রোড শো শুরু করেন, সেসময়েই সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়ের আঁকা মহানায়কের প্রতিকৃতি তাঁর হাতে তুলে দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। এর আগে পানিহাটির 'বিজয় সংকল্প সভা'য় প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর সময়ে শমীক মোদির হাতে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ছবি তুলে দিয়েছিলেন। এবার বাঙালির মন পেতে 'হাতিয়ার' মহানায়ক। রবিবার বি কে পাল অ্যাভিনিউ থেকে খান্না ক্রসিং পর্যন্ত রোড শো করেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই তাঁর হাতে বাঙালির চিরন্তন কিংবদন্তি তারকা উত্তম কুমারের প্রতিকৃতি দেখা যায়। যেসব ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত দেখে বিরোধীদের মত, বাংলার মনীষীদের নাম-বিভ্রাটের মাঝে এসব 'স্ক্রিন ক্যাপচার' এবং বাঙালিয়ানা দেখানোর প্রচেষ্টা ব্যতীত আর কিছুই নয়!
গঙ্গাবক্ষে নরেন্দ্র মোদি। ছবি- ফেসবুক
একুশের বিধানসভা ভোটে বাঙালি আবেগে শান না দেওয়ায় বাংলায় পদ্ম ফোটাতে ব্যর্থ হয়েছিল গেরুয়া শিবির। অতঃপর 'সোনার বাংলা' স্বপ্নও তাদের অধরাই থেকে যায়। কিন্তু এবার বাংলা হোমওয়ার্কে যতই ভুলচুক হোক না কেন বাঙালি অস্মিতায় শান দেওয়ার কোনও কসরতই বাকি রাখেনি বিজেপি।
একুশের বিধানসভা ভোটে বাঙালি আবেগে শান না দেওয়ায় বাংলায় পদ্ম ফোটাতে ব্যর্থ হয়েছিল গেরুয়া শিবির। অতঃপর 'সোনার বাংলা' স্বপ্নও তাদের অধরাই থেকে যায়। কিন্তু এবার বাংলা হোমওয়ার্কে যতই ভুলচুক হোক না কেন বাঙালি অস্মিতায় শান দেওয়ার কোনও কসরতই বাকি রাখেনি বিজেপি। সেই কৌশলেরই অঙ্গ হিসেবে কখনও মাছের কাঁটা বেছে খাচ্ছেন, আবার কখনও বা রামনাম ছেড়ে 'দুর্গা-কালী'ও আওড়াচ্ছেন পদ্ম শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বরা। ভাষা, খাদ্য, ধর্মীয় বিশ্বাসের পর এবার শেষ দফা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাঙালির সিনে সংস্কৃতিতে শান দিলেন শমীকরা।
