দ্বিতীয় দফার ভোটে (WB Assembly Election 2026) অশান্তি রুখতে কড়া নির্বাচন কমিশন। গোটা কলকাতাকে মোটি ৩৫১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি সেক্টরে ঘুরবে সেক্টর মোবাইল। সেক্টর মোবাইলগুলিতে একজন অফিসার এবং দু’জন অস্ত্র-সহ পুলিশকর্মী থাকছেন। ৩০৬টি অতিরিক্ত কুইক রেসপন্স টিমের প্রত্যেকটিতে থাকছেন একজন করে পুলিশ আধিকারিক এবং অর্ধেক সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী।
জানা গিয়েছে, প্রত্যেকটি থানায় থাকছে একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স। তাতে থাকছে একজন ইন্সপেক্টর, দু’জন অফিসার-সহ ২১ জনের পুলিশ বাহিনী। হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াডের দায়িত্বেও থাকছে একজন করে ইন্সপেক্টর। কোনও গোলমালের খবর পেলেই যাতে কয়েক মিনিটের মধ্যে বাহিনী সেই জায়গায় হাজির হতে পারে, সেই ব্যবস্থাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, বুধবার সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রের বাইরে ও রাস্তায় টহলদারিতে থাকছে অন্তত ১২ হাজার পুলিশ। সঙ্গে প্রায় ২২ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী। টহলদার গাড়ির সঙ্গে বাইকে করেও নজরদারি চালাবে পুলিশ।
ভোটের দিন কোথাও বোমা পাওয়া গেলে বা বোমাবাজি হলেই সংশ্লিষ্ট থানার ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কমিশন। এমন নির্দেশের পর ‘বাউন্ড ডাউন’-এর উপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে প্রত্যেকটি থানার পুলিশ। এলাকায় যাঁদের বিরুদ্ধে সামান্য অভিযোগও রয়েছে, তাদের কার্যকলাপের উপরও নজর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ আধিকারিকরা। এদিকে, মঙ্গলবার দক্ষিণ কলকাতার কসবা থেকে শুরু করে ভাঙড়ের বিভিন্ন জায়গায় হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। গত কয়েকদিনে যেখানে যেখানে বোমাবাজি হয়েছিল এবং বোমা উদ্ধার হয়েছিল, সেই জায়গাগুলিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা পৌঁছন। খতিয়ে দেখেন এলাকা।
লালবাজারের একটি সূত্র জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কলকাতায় ১৪০ জন 'ট্রাবল মঙ্গার'-এর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকা দেওয়া হয়েছে কমিশনকেও। ওই ব্যক্তিদের ঠিকানাও দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে। সেই মতোই চলছে নজরদারি। 'ট্রাবল মঙ্গার'দের মধ্যে রয়েছে শেখ বিনোদের মতো পুরনো ত্রাসদের নামও। তবে তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের অনেকেই কলকাতার বাইরে রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ভোটের আগে ছোটখাটো অভিযোগও যাঁদের বিরুদ্ধে এসেছে, পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে।
