পশ্চিমবঙ্গের ভোট এখনও শেষ হয়নি। কিন্তু তার মধ্যেই পরবর্তী লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্য সামনে রেখে দল ইতিমধ্যেই ৭টি রাজ্যে সংগঠন মজবুত করার কাজ শুরু করেছে। যার মধ্যে রয়েছে উত্তর প্রদেশ ও গুজরাট।
দলীয় সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশনায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতীন নবীন ইতিমধ্যেই ‘গ্রাউন্ডওয়ার্ক’ শুরু করে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে যখন শেষ দফার ভোটের উত্তেজনা তুঙ্গে, তখনই অন্য রাজ্যগুলিতে সংগঠন বিস্তার ও কৌশল তৈরিতে ব্যস্ত গেরুয়া শিবির।
রাজনৈতিক মহলে বহুল প্রচলিত প্রবাদ—‘বিজেপি কখনও ঘুমোয় না’। এবার যেন তা স্পষ্ট ধরা পড়ছে। একদিকে বাংলায় ভোটযুদ্ধ, অন্যদিকে সমান্তরালভাবে ভবিষ্যতের নির্বাচনের রণকৌশল। দলীয় এক নেতার কথায়, "একটি নির্বাচন শেষ মানেই পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতির শুরু।"
২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের পর ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণের অপেক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ। একই সময়ে তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং পুদুচেরি-তেও নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, যার ফল প্রকাশ হবে ৪ মে।
সূত্রের খবর, বঙ্গে ও বাকি প্রদেশে নির্বাচনী প্রচারের ফাঁকেই নিতীন নবীন একাধিকবার এই রাজ্যগুলিতে গিয়ে সংগঠন পর্যালোচনা করেছেন। পাশাপাশি গোয়া, উত্তর প্রদেশ ও গুজরাটে গোপন বৈঠক করে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রূপরেখাও তৈরি করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তাঁর উত্তরাখণ্ড সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিজেপি শিবির আত্মবিশ্বাসী—পশ্চিমবঙ্গে ভালো ফলের পাশাপাশি অসম ও পুদুচেরিতে জোট সরকার ধরে রাখা, আর তামিলনাড়ুতেও ক্ষমতায় আসার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে তারা। একই সঙ্গে কেরলেও নিজেদের জমি আরও শক্ত করার কৌশল নিয়েছে দল। সব মিলিয়ে, বাংলার ভোটের উত্তাপের মাঝেই স্পষ্ট বিজেপি শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের লড়াইকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশল সাজাতে শুরু করেছে।
