shono
Advertisement
PM Modi Brigade Rally

চমক নেই, শিল্প-ভাতা-মতুয়াতে 'নীরব', মোদির ব্রিগেড শুধুই 'ধমকে' ভরা

শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মী সাধারণ মানুষকে ব্রিগেডের সভায় তুলে আনা হল, সেই আশা পূরণ হল কি? প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে আদৌ কোনও বার্তা পেলেন কর্মীরা?
Published By: Subhajit MandalPosted: 06:21 PM Mar 14, 2026Updated: 08:12 PM Mar 14, 2026

এলেন, দেখলেন, কিন্তু ব্রিগেডের সভায় বঙ্গবাসীর মন কি জয় করতে পারলেন নরেন্দ্র মোদি?

Advertisement

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির 'বিগেস্ট শো' ব্রিগেড সভা (PM Modi Brigade Rally) ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়েছিল। মাস কয়েক আগে থেকে রীতিমতো সাজসাজ রব শুরু হয়ে গিয়েছিল বিজেপির অন্দরে। জেলায় জেলায় পরিবর্তন যাত্রা করে প্রচার করা হল। বিভিন্ন জেলা থেকে লোক আনতে লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি টাকা খরচ করা হল স্রেফ ট্রেন এবং বাস ভাড়া করতে। লোকসমাগম নেহাত মন্দ হল না। শনিবাসরীয় ব্রিগেডের সভার শুরুতে লোকসমাগম দেখে বিজেপির নেতারা বেশ চওড়া হাসিই হাসছিলেন। কিন্তু বেলা গড়াতেই সেই হাসি যেন ফিকে হয়ে গেল।

কেন? যে আশায় হাজার হাজার নেতাকর্মী, মানুষকে জেলা থেকে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্রিগেডের সভায় তুলে আনা হল, সেই আশা পূরণ হল কি? প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে আদৌ কোনও বার্তা পেলেন কর্মীরা? পরিবর্তনের আশা সঞ্চার হল 'মোদিজি কা ভক্ত'দের মনে? একপ্রকার প্রত্যাশিতভাবেই প্রধানমন্ত্রী বাংলা বলে ভাষণ শুরু করলেন। বিবেকানন্দ থেকে রানি রাসমণি পর্যন্ত বাংলার জনা কয়েক মনীষীর নাম বলে বাঙালি সাজার চেষ্টা করলেন, অতঃপর তিনি ফিরে গেলেন সেই পুরনো অনুপ্রবেশকারী এবং তুষ্টিকরণ ইস্যুতে। এর মাঝে একটুখানি বাজার গরম করার জন্য, 'বদলা চাই', 'হিসাব নেওয়া হবে', 'কট্টরপন্থীদের জেলে পাঠাব', 'তোষণ চলবে না' গোছের শব্দ বললেন বটে, কিন্তু বঙ্গ বিজেপি কর্মীরা যা শুনতে চান, সেটা পেলেন কই? রাজ্যজুড়ে পরিবর্তন যাত্রার ডাক দিয়েছে পদ্মশিবির। কিন্তু সেই সংকল্পের দিশা পেলেন কই?

এই মুহূর্তে বাংলার সবচেয়ে জ্বলন্ত ইস্যু SIR, তাতে প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলকে বিঁধেছেন। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে যেভাবে তিনি হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের চেষ্টা করলেন, সেই রাজনীতি ইতিমধ্যেই বাংলায় পরীক্ষিতভাবে ব্যর্থ। অন্তত ২০২১ এবং ২০২৪-এ কাজ করেনি।

ব্রিগেডের মতো জনসভায় প্রধানমন্ত্রী আসবেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করবেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষের তীরে বিঁধবেন, বাংলায় বিজেপির জন্য আসনসংখ্যার টার্গেট বাঁধবেন, কর্মীদের চাঙ্গা করতে প্রতিশ্রুতি দেবেন, তৃণমূল সরকারকে আগাপাশতলা আক্রমণ করবেন, ঠিক কোনওটাই করে উঠতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী। শুধু বার কয়েক বাংলার সরকারকে 'নির্মম' বললেন। 'নারী নিরাপত্তা, চাষিদের দুর্দশা নিয়ে দু'চার কথা বললেন। কিন্তু সমস্যা হল মোদি যে সমস্যাগুলির কথা বললেন, সেটার কোনওটাই ঠিক বাংলার প্রথম সারির ইস্যু নয়। নারী সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন আছে বটে, কিন্তু সেটা বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলির তুলনায় অনেক কম, চাষিদের দুর্ভোগ কোনওভাবেই মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান বা মহারাষ্ট্রের কৃষকদের মতো নয়। 

বাংলার সরকারকে আক্রমণ করার জন্য বেকারত্ব, দুর্নীতি, শিল্প, রাস্তাঘাটের অনুন্নয়নের মতো বহু হাতেগরম ইস্যু ছিল। সেসব ছুঁয়েও দেখলেন না প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিক ইস্যুর মধ্যে শুধু উঠে এল বঙ্গ সফরে আসা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে 'অপমানে'র প্রসঙ্গ।

এই মুহূর্তে বাংলার সবচেয়ে জ্বলন্ত ইস্যু SIR, তাতে প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলকে বিঁধেছেন। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে যেভাবে তিনি হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের চেষ্টা করলেন, সেই রাজনীতি ইতিমধ্যেই বাংলায় পরীক্ষিতভাবে ব্যর্থ। অন্তত ২০২১ এবং ২০২৪-এ কাজ করেনি। তাছাড়া SIR নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যখন কথা বলছেন, তখন অন্তত নাম বাদ পড়া হাজার হাজার মতুয়াদের নিয়ে দু-একটা আশ্বাসবাণী তাঁর কাছে প্রত্যাশিত ছিল। সেটাও ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে শোনাতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী। বরং বাংলার সরকারকে আক্রমণ করার জন্য বেকারত্ব, দুর্নীতি, শিল্প, রাস্তাঘাটের অনুন্নয়নের মতো বহু হাতেগরম ইস্যু ছিল। সেসব ছুঁয়েও দেখলেন না প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিক ইস্যুর মধ্যে শুধু উঠে এল বঙ্গ সফরে আসা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে 'অপমানে'র প্রসঙ্গ। কিন্তু একবারও বললেন না বাংলায় বিজেপি এলে শিল্প হবে, একবারও বললেন না বাংলায় বিজেপি এলে নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ হবে, একবারও বলতে শোনা গেল না যে বাংলায় বিজেপি এলে তৃণমূল সরকারের যে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, সেগুলির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে কি না? শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্যরা জেলায় জেলায় গিয়ে গলা ফাটাচ্ছেন বিজেপি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ৩ হাজার টাকা করে দেবে বলে, শিল্প হবে, অথচ মোদির মুখে সেসব নিয়ে 'টু' শব্দটি নেই।

শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্যরা জেলায় জেলায় গিয়ে গলা ফাটাচ্ছেন বিজেপি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ৩ হাজার টাকা করে দেবে বলে, শিল্প হবে, অথচ মোদির মুখে সেসব নিয়ে 'টু' শব্দটি নেই।

তাহলে এক ঘণ্টার বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী কী বললেন, তিনি শুধুই অনুপ্রবেশকারীদের শত্রু বানিয়ে তাঁদের ধমক দিয়ে গেলেন। বোঝানোর চেষ্টা করলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কট্টরপন্থীরা, অনুপ্রবেশকারীরা (পড়ুন সংখ্যালঘুরা) ভয়ে ভয়ে থাকবেন, তোষণের রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, সবাইকে শাস্তি পেতে হবে। বস্তুত, তাঁর বক্তব্যের মূল বক্তব্য একটাই, সংখ্যালঘুদের একটু ধমকে দেওয়া। আর 'বাঙালিয়ানা' দেখানোর চেষ্টা। কিন্তু এভাবে বাঙালির দল হওয়ার চেষ্টা করে কি 'বাংলার দল-বাঙালির দল' তৃণমূলকে হারানো যাবে? সে উত্তর হয়তো ব্রিগেড ফেরত বিজেপি কর্মীরাও খুঁজবেন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement