ভোট (Bengal Election 2026) প্রচারে বেরিয়েছেন বারাবনির তৃণমূল প্রার্থী বিধান উপাধ্যায় তথা বিদায়ী বিধায়ক। নাগরিক 'দুয়ারে' পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি। তাঁকেই ভোট দেওয়ার আবেদন করছেন। প্রচারের মাঝে আচমকা পা জড়িয়ে ধরেন বৃদ্ধা। বয়স ওই ৯০। শরীর অশক্ত। বৃদ্ধার কাতর আর্জি, "আমার নাম ভোটার তালিকায় তুলে দাও বাবা।" নির্বাচন কমিশন কী? কে বিধায়ক? বোঝার অত ক্ষমতা বৃদ্ধার এখন আর নেই। একটাই আর্তি নামটা ভোটার তালিকায় তুলে দিতে হবে।
বারাবনির রূপনারায়ণপুরের সীমান্তপল্লীর বাসিন্দা দুর্গা রায়। একমাত্র ছেলে মারা গেছেন অনেক দিন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। জনশূন্য ঘরে একাই দিন কাটান তিনি। কিন্তু হাজার সমস্যার মাঝেও ভোটটা দিতে ভোলেন না। এতদিন নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ার তালিকা বেরনের পর দেখা যায়, তাঁর নাম 'ডিলিডেট'। কারণ, সরকারি খাতায় তিনি 'মৃত'। এ কথা জানার পরই কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধা।
বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্রের সীমান্তপল্লি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়েছিলেন বিদায়ী বিধায়ক, এবারের প্রার্থী বিধান উপাধ্যায়। ভিড়ের মাঝে বিধায়ককে দেখতেই সামনে এগিয়ে আসেন দুর্গা দেবী। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি আক্ষেপ করেন, "আমার তো কেউ নেই বাবা! আমি তো মরে যাইনি। তবে কেন তালিকায় আমার নাম কাটা গেল? নাম না থাকলে আমি ভোট দেব কী করে? নিজের ভিটেতেই থাকব কী করে?" বৃদ্ধার এই বুকফাটা আর্তি শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যায় নির্বাচনী প্রচারের কোলাহল।
প্রচার থামিয়ে বৃদ্ধাকে আশ্বস্ত করেন প্রার্থী বিধান। ব্লকের দলীয় নেতৃত্বকে নির্দেশ দেন যত দ্রুত সম্ভব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যাতে দুর্গা রায়ের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় যোগ হয়, সেই জন্য সমস্ত সাহায্য করতে হবে। বিধান উপাধ্যায় বলেন, "মানুষকে আতঙ্কিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু যতক্ষণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আমাদের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন, ততক্ষণ কাউকে কোথাও যেতে হবে না। তৃণমূল কংগ্রেস সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে আছে। দুর্গা 'মায়ে'র মতো অন্য কেউ যদি থাকেন, তাঁদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তৃণমূল পাশে আছে।"
