এসআইআরে (SIR in West Bengal) নন্দীগ্রামে প্রায় ৯৫.৫ শতাংশ মুসলিমদের নাম বাদ পড়ায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। নন্দীগ্রামের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২৫ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় যেসব ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৯৫.৫ শতাংশই মুসলিম ছিলেন।
তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত তালিকায় মোট ১০,৬০৪ জনের নাম বাদ পড়েছিল। যার মধ্যে ৬৬.৭ শতাংশ ছিলেন অ-মুসলিম এবং ৩৩.৩ শতাংশ মুসলিম। কিন্তু সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় দেখা যাচ্ছে, মোট ২,৮২৬ জন ভোটারের নাম নতুন করে বাদ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা ২,৭০০। অর্থাৎ মোট শতাংশের হিসাবে তা প্রায় ৯৫.৫ শতাংশ। অথচ, এই তালিকায় অ-মুসলিমদের নাম বাদ দেওয়ার সংখ্যা মাত্র ১২৬ জন বা প্রায় ৪.৫ শতাংশ। নাম বাদ পড়ার তালিকায় ৫১.১ শতাংশ পুরুষ ও ৪৮.৯ শতাংশ মহিলা রয়েছেন বলে খবর। কেন মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে নাম বাদ পড়ার এই তালিকায় এত বড় পরিবর্তন হল, কেন নির্দিষ্টভাবে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কেই এই প্রক্রিয়ার কবলে পড়তে হয়েছে, তা নিয়ে জেলা প্রশাসনের অন্দরে জল্পনা শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি তথা নন্দীগ্রামের অন্যতম তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ান বলেন, "বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ ওঁরা বিজেপির ভোটার নন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ট্রাইব্যুনাল খোলা হয়েছে। কী হয় দেখা যাক। তারপর আমরা হাই কোর্টে যাব।” অন্যদিকে, বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক তথা নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা মেঘনাদ পাল বলেন, "এই তথ্য তো আমরাও জেনেছি। কিন্তু এগুলি বিজেপির হাত কোথায়? বিজেপি তো এসআইআর (SIR in West Bengal) প্রক্রিয়া করেনি। করেছে নির্বাচন কমিশন। আর কমিশন উত্তরপ্রদেশ বা গুজরাট থেকেও অফিসার এনে এ কাজ করেনি। ফলে এ নিয়ে বিজেপির কিছু বলার থাকতে পারে না।"
