চাকরি করতে দেবে না বলে হাত কেটে নিয়েছিল স্বামী! তারপরও তাঁকে দমানো যায়নি। ঘটনার দিন কয়েক পরেই হাসপাতালের বিছানায় বসে বাম হাতে লেখার চেষ্টা শুরু করেছিলেন। তাঁর কথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখা করেছিলেন। ভরসা দিয়েছিলেন তাঁকে। প্রস্থেটিক কসমেটিক হাতের ব্যবস্থাও করেছিলেন। গত চারবছর আগে রেণু খাতুন সংবাদের শিরোনামে চলে এসেছিলেন। সেই রেণুর নামই এবার এসআইআরের (SIR in West Bengal) সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। আগামীতে কী হবে বুঝতে পারছেন না রেণু। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরেই ভরসা রাখছেন তিনি। এবারও মুখ্যমন্ত্রীকে এই লড়াইয়ে পাশে পাবেন, মনে করছেন রেণু খাতুন।
বর্ধমানের কেতুগ্রামের চিনিসপুর এলাকায় রেণু জন্ম-পড়াশোনাম পরবর্তীকালে বিয়ে। নিজের ইচ্ছায় প্রেমিক সরিফুল শেখকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। জেএনএম পাশ করে দুর্গাপুরের একটি নার্সিংহোমে নার্সের কাজ করতেন রেণু। পরবর্তীকালে স্বাস্থ্যদপ্তরে নার্সের পদে চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বাড়িতে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের চিঠিও আসে। চাকরিতে যোগ দেওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা।
কিন্তু ২০২২ সালের জুন মাসের শুরুতেই জীবন ওলোটপালোট হয়ে যায়। স্বামী চাকরি করতে দিতে চাইতেন না! নতুন জায়গায় কাজে যেতেও বারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই কথা কানে তোলেননি। সেজন্য 'শায়েস্তা' করতে রাতে ঘুমিয়ে থাকা রেণুর ডান হাত কবজি থেকে কেটে নিয়েছিলেন স্বামী! ওইসময় রেণুর মুখ কয়েকজন বালিশ দিয়ে চেপে ধরে রেখেছিল! গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে থাকাকালীন দিন কয়েকের মধ্যেই বাম হাত দিয়ে লেখার চেষ্টা শুরু করেছিলেন তিনি। তাঁর অদম্য জেদ, মানসিক জোরকে সকলেই কুর্নিশ করে।
সেইসময় বর্ধমানে সভায় গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি নিজে হাসপাতালে গিয়ে রেণুর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জড়িয়ে ধরে রেণুকে বলেছিলেন, "অনেক বড় হতে হবে।" পরবর্তীকালে প্রস্থেটিক কসমেটিক হাতের ব্যবস্থা করা হয় সরকারের তরফে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সরকারি নার্সিং স্টাফের চাকরিও পান রেণু। সেই রেণু এবার ফের সমস্যায়। ৪ এপ্রিল সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় দেখা যায় তাঁর নাম নেই। বাদ গিয়েছে দাদা ও ভাইয়ের নামও। এতদিন পর্যন্ত কেতুগ্রাম বিধানসভার ৩৩ নম্বর বুথের ভোটার ছিলেন রেণু। এই পরিস্থিতিতে তিনি ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হচ্ছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কী হবে? রেণু জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীই ভরসা। তিনি বলেন, "জানি না ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম কাটা যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী জানেন কিনা। জানতে পারলে এবারও তাঁকে পাশে পাব, আমি জানি।"
এই পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রেণু। তিনি জানিয়েছেন, মা-বাবা দীর্ঘদিনের ভোটার। গত লোকসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। তারপরও নাম নেই!
