প্রথম দফায় বাংলার ১৫২টি কেন্দ্রে নির্বাচন হয়েছে বৃহস্পতিবার। প্রত্যেক কেন্দ্রেই এবার অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। শুধু তাই নয়, একপ্রকার অবিশ্বাস্যভাবে প্রথম দফার ১৫২ আসনে ভোট পড়েছে প্রায় ৯২ শতাংশ। যা বাংলার তো বটেই, ভারতীয় রাজনীতিতেই ইতিহাস। তবে প্রথম দফা নির্বাচনে রেকর্ড ভোটের নজির তৈরি করেছে কোচবিহার জেলা। এই জেলায় মোট ৯৬.৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, জেলার শীতলকুচি বিধানসভায় ভোট পড়েছে প্রায় ৯৮ শতাংশ। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এই বিধানসভার বিপিনচন্দ্র রায় পূর্বপাড়া পঞ্চম পরিকল্পনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০৩ নম্বর বুথে ৯৯ শতাংশের বেশি ভোট হয়েছে। যা রীতিমতো অবাক করা মতো বলছেন রাজনৈতিক কারবারিরা। কিন্তু কারা ভোট দিতে পারলেন না!
জানা গিয়েছে, শীতলকুচির বিপিনচন্দ্র রায় পূর্বপাড়া পঞ্চম পরিকল্পনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০৩ নম্বর বুথে মোট ভোটার ৬৩৯ জন। দু'জন মৃত্যু হয়েছে। ফলে বৈধ ভোটার সংখ্যা মাত্র ৬৩৭। বুথে ভোট পড়েছে ৬৩০ টি। একটি ভোট পড়েছে পোস্টাল ব্যালটে। বাকি ৬৩১ টি ভোট পড়েছে ইভিএমে। তবে মাত্র ছয়জন ভোটার এই বুথে ভোট দিতে পারেননি। জানা যাচ্ছে, এই ছয়জনই পরিযায়ী শ্রমিক। বাড়ি ফিরতে না পারায় তাঁরা ভোটে অংশ নিতে পারেননি।
শীতলকুচির বিপিনচন্দ্র রায় পূর্বপাড়া পঞ্চম পরিকল্পনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০৩ নম্বর বুথে মোট ভোটার ৬৩৯ জন। দু'জন মৃত্যু হয়েছে। ফলে বৈধ ভোটার সংখ্যা মাত্র ৬৩৭। বুথে ভোট পড়েছে ৬৩০ টি।
ওই বুথে বিএলও'র দায়িত্বে ছিলেন বিপিনচন্দ্র রায় পূর্বপাড়া পঞ্চম পরিকল্পনা প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সুরেশ চন্দ্র বর্মন। তিনি বলেন, ''এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় বুথে সমস্ত বাড়ি বাড়ি গিয়েছিলাম। ওই বুথের বহু পরিবার পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। ভোটের জন্য তাঁরা ফিরে এসেছিলেন। এবার ভোট না দিতে পারলে পরবর্তীতে কি হবে সেই আশঙ্কা একটি কাজ করেছে, ফলে অধিকাংশ পরিযায়ী শ্রমিক ফিরে ভোটে অংশগ্রহণ করেছেন। কয়েকজন বুথে আসতে দেরি করছিলেন। তাদেরকে ফোন করে ডেকে ভোট দিতে উৎসাহ দিয়েছিলাম। ফলে তাঁরা ভোটে অংশগ্রহণ করেছেন। যে ৬ জন ভোট দিতে পারেননি তারা ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে রয়েছেন ফিরতে পারেননি। তা না হলে ১০০ শতাংশ ভোট হয়ে যেত।"
বিপিনচন্দ্র রায় পূর্বপাড়া পঞ্চম পরিকল্পনা প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, কোচবিহার জেলায় সর্বাধিক শীতলকুচি বিধানসভায় ৯৭.৫৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। বলে রাখা প্রয়োজন, ২০২১ বিধানসভা ভোটের সময় এই শীতলকুচির জোরপাটকি গ্রামের স্কুলের বুথে গুলি চলে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। ভোটের লাইনে মৃত্যু হয় চার যুবকের। সেই শোক এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে শীতলকুচি। কিন্তু মানুষ যেভাবে এই বিধানসভায় ভোট দিয়েছেন তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
২০২১ বিধানসভা ভোটের সময় এই শীতলকুচির জোরপাটকি গ্রামের স্কুলের বুথে গুলি চলে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। ভোটের লাইনে মৃত্যু হয় চার যুবকের। সেই শোক এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে শীতলকুচি।
অন্যদিকে রাজ্যের এক নম্বর আসন অর্থাৎ মেখলিগঞ্জে ভোট পড়েছে ৯৬.৮৭ শতাংশ ভোট। সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৯৬.৫৪ শতাংশ , মাথাভাঙায় ৯৫.৯৬ শতাংশ, নাটাবাড়িতে ৯৫.৮২ শতাংশ, কোচবিহার উত্তরে ৯৫.৪৫ শতাংশ, তুফানগঞ্জে ৯৫.৩৯ শতাংশ, দিনহাটাতে ৯৫.৭ শতাংশ এবং কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে ৯৪ .৭৬ শতাংশ ভোটার নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
