একুশে দফায় দফায় বাংলা সফর করলেও আশানুরূপ ফল করতে পারেনি ভারতীয় জনতা পার্টি। পূর্ব বর্ধমানের ১৬ টি আসনের মধ্যে একটি আসনেও পদ্ম ফোটাতে পারেননি মোদি-শাহ-শুভেন্দুরা। কিন্তু তাতেও ভাঙেনি মনোবল। শনিবার জামালপুরের সভা থেকে শাহ বললেন, "৪ মে বর্ধমানের মিহিদানা-সীতাভোগে মোদিজির মিষ্টিমুখ করাব।" অর্থাৎ বুঝিয়ে দিলেন, তিনি নিশ্চিত শূন্যের গেরো কাটিয়ে পদ্ম ফুটবে পূর্ব বর্ধমানে। পাশাপাশি ওই সভা থেকেই শাহ স্পষ্ট জানালেন, ৫ মে-র পর নাগরিকত্ব পাবেন সব মতুয়ারা।
দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের (WB Assembly Election 2026) আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। স্বাভাবিকভাবেই ঝোড়ো প্রচার চালাচ্ছে সব দল। ভোটকে পাখির চোখ করে কিছুদিন ধরে কলকাতায় রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে সভা করেন তিনি। সেখান থেকেই শাহ বলেন, "প্রথম দফায় বিজেপি ১১০ আসন জিতবে দিদির খেলা শেষ করে দেবে। এখানেও পদ্মফুল ফুটবে। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ৪ মে বর্ধমানের মিহিদানা-সীতাভোগে মোদীজির মুখমিষ্টি করব।" এদিন ফের আর জি কর, সন্দেশখালি প্রসঙ্গ শোনা যায় তাঁর গলায়। শাহ বলেন, "আরজি কর, সন্দেশখালি প্রতি জায়গায় মা-বোনেদের উপর অত্যাচার হয়েছে। দিদি বলেন, মা-বোনেরা ৭টা পর বাড়ি থেকে বেরবেন না। কিন্তু আমি বলে যাচ্ছি, বিজেপি সরকার এলে মাঝরাতেও মা-বোনেরা বেরতে পারবেন। এটা আমার প্রতিশ্রুতি।"
এদিন জামালপুর থেকে মতুয়াদের অভয়বার্তা দেন শাহ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেন, "দিদি মতুয়াদের ভয় দেখাচ্ছেন। যদি বিজেপি আসে তা হলে আপনাদের ভোটাধিকার নাকি চলে যাবে। কিন্তু দিদি, এই মতুয়া সমাজ আমাদের প্রাণ। ওদের কেউ ছুঁতে পারবে না। মতুয়া সমাজ, নমশূদ্র সমাজের ব্যক্তিদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। সিএএ করতে দিচ্ছে না দিদি। আপনারা বিজেপির সরকার বানিয়ে দিন, ৫ তারিখের পর মতুয়া সমাজের সব ভাই-বোনদের নাগরিকত্ব দেবে বিজেপি।" কিন্তু অশ্বাসে কি সত্যিই মতুয়াদের মন জিততে পারবেন বিজেপি? উত্তর মিলবে ভোটবাক্সে।
