রাজনৈতিক মহলে 'বালু' নামেই খ্যাত তিনি। রেশন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে (Jyotipriya Mallick) হাবড়া কেন্দ্র থেকে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। এই মামলায় তাঁকে জেলেও যেতে হয়েছিল। কিন্তু হাবড়া আসনে জয়ের লক্ষ্যে বালুর উপরেই ভরসা রেখেছে রাজ্যের শাসকদল। গত শনিবার তিনি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। জ্যোতিপ্রিয়র বিরুদ্ধে ইডির দায়ের করা রেশন দুর্নীতির মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, সম্পত্তির খতিয়ান জানা গিয়েছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক জ্যোতিপ্রিয়র সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য।
জ্যোতিপ্রিয়র হাতে রয়েছে নগদ ২৪ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীর হাতে রয়েছে ১০ হাজার টাকা। প্রার্থীর আয়ের প্রধান উৎস হল বেতন। পেশায় তিনি একজন আইনজীবী। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে প্রার্থীর ব্যক্তিগত আয় ছিল ৩৮ লক্ষ ২৯ হাজার ৭১০ টাকা। ওই একই অর্থ বছরে জ্যোতিপ্রিয়র স্ত্রীর আয় ছিল ২৬ লক্ষ ৬৯ হাজার ৭২০ টাকা।
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের (Jyotipriya Mallick) মোট ১ কোটি ৬৬ লক্ষ ৪০ হাজার ৫৭৬ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাঙ্কে এবং পোস্ট অফিসে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, স্থায়ী আমানত এবং মাসিক আয় প্রকল্পে প্রচুর অর্থ জমা রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন নামী কোম্পানিতে (যেমন বাজাজ ফিনসার্ভ, টাটা স্টিল, ইন্ডিয়ান অয়েল) তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে। জ্যোতিপ্রিয়র একটি মহিন্দ্রা স্করপিও গাড়ি রয়েছে। এর বাজারমূল্য ৭ লক্ষ ৩৩ হাজার ৮৬১ টাকা। তাঁর কাছে ১৬ গ্রাম ওজনের চারটি সোনার আংটি রয়েছে, যার বাজারমূল্য ২ লক্ষ ২০ হাজার ৮০০ টাকা। জ্যোতিপ্রিয়র স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৬৬ লক্ষ ৬১ হাজার ২৫৭ টাকা। তাঁর একটি 'হুন্ডাই ক্রেটা' গাড়ি রয়েছে। তাঁর কাছে প্রায় ১৯.২৯ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। এই গয়নার বাজারমূল্য ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ২০২ টাকা।
জ্যোতিপ্রিয়র স্থাবর সম্পত্তির মোট বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩১ লক্ষ টাকা। তাঁর নামে কোনও কৃষি ও অকৃষি জমি নেই। কলকাতার বেনিয়াটোলা লেনে প্রার্থীর নামে দু'টি ফ্ল্যাট রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর নামে কলেজ স্ট্রিটে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। সমবায় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক থেকে তাঁর নামে ৩০ লক্ষ ৯১ হাজার ৫৮৭ টাকার একটি ঋণ রয়েছে। অন্যদিকে, জ্যোতিপ্রিয়র স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৪০ লক্ষ টাকা।
