সাতের দশকের কংগ্রেস বিধায়ক তথা তৎকালীন মন্ত্রী প্রয়াত ভোলানাথ সেনের নাম করে ভোট চাইছেন ভাতারের বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফা। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, 'ভোলানাথ সেনের ভাতার গড়তে বিজেপিকে ভোট দিন।' এই পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "বিজেপি যে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া এটা তারই প্রমাণ। উন্নয়নের প্রশ্নে যে কোনও দলকে কংগ্রেসের নাম না ছাড়া উপায় নেই। কারণ পশ্চিমবঙ্গের যা কিছু শিল্প, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ সবকিছু কংগ্রেসের আমলে তৈরি। নরেন্দ্র মোদিকে মহাত্মা গান্ধীর চশমা ব্যবহার করতে হয়। তাই বিজেপি প্রার্থীকেও ভোলানাথ সেনের নাম নিয়ে ভোট চাইতে হচ্ছে।”
পদ্ম প্রার্থীর পোস্টে কমেন্টে কেউ লিখেছেন, 'ভোলানাথ সেনের ভাতার গড়তে কং সিম্বলে দাঁড়াতে হত। ভোলানাথ এই পদ্মফুলকে পছন্দ করতেন না।' এদিকে ভাতারে সৌমেনের নাম ঘোষণার পর থেকেই দলের অন্দরে শুরু হয়েছে বিজেপির আদি-নব্য সংঘাত। দলের যুব মোর্চার প্রাক্তন নেতা ইন্দ্রনীল গোস্বামী ফেসবুকে সৌমেনের সঙ্গে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর একটি পুরানো ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, 'ভাতার বিধানসভায় রাষ্ট্রবাদী কার্যকর্তাদের বঞ্চিত করে মার্কামারা সিপিএম হার্মাদ সৌমেন কার্ফাকে প্রার্থী করা হল। অবিলম্বে এই নাম প্রত্যাহার না করা হলে সনাতনী ঐক্য মঞ্চের পক্ষ থেকে প্রার্থী দাঁড় করানো হবে।' আদি পদ্ম কর্মী কেশব কোনার বলেন, "বর্ধমানে যাঁরা এখন বিজেপির নেতৃত্বে রয়েছেন তাঁদের কাজ দলকে ভাঙিয়ে তোলাবাজি করা। এরা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সেটিং করে বসে আছে। অন্য দল থেকে কেউ আসতেই পারে। কিন্তু তাঁকে দলের শৃঙ্খলা মানতে হবে। সৌমেন সেই শৃঙ্খলা মানে না।" দলীয় প্রার্থী নিয়ে আপত্তি তুলে মঙ্গলবার বর্ধমানে বিজেপির একাংশ বৈঠকে বসেন। বুধবার তাঁরা রাজ্য নেতৃত্বের কাছে প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য আবেদন জানাবেন।
প্রয়াত কংগ্রেস নেতা ভোলানাথ সেনের নাম করে ভোট চাওয়া প্রসঙ্গে দলের জেলা সহ সভাপতি সঞ্জীব সেন বলেন, "ওটা সৌমেন কার্ফার ব্যক্তিগত মতামত। উনি হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন ভোলানাথ সেনের আমলে ভাতারে যে উন্নয়ন হয়েছিল সেই ধারাকে তিনি বজায় রেখে দেবেন।" প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ প্রসঙ্গে সঞ্জীব বলেন, "দল যাকে যোগ্য মনে করেছে তাকেই প্রার্থী করেছে। এটা নিয়ে বলার কিছু নেই।" ভাতারের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শান্তনু কোঁয়ার বলেন, "ভোলানাথ সেন ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করতেন। বিজেপি প্রার্থী বুঝে গিয়েছেন ওর দল ধর্মীয় বিভাজনের যে রাজনীতি করছে সেটা ভুল। তাই নরেন্দ্র মোদি বা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে আদর্শ না করে ভোলানাথ সেনকে আদর্শ মনে করছেন। না হলে ভাতারের মাটিতে লড়াই করতে পারবেন না।"
