ভুলের পর ভুল। বাংলায় এসে নির্বাচনী প্রচারে নাম-বিভ্রাট বিতর্কে জর্জরিত বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা। এবার সেই বিতর্কে নাম লেখাল বঙ্গ বিজেপি। বিজেপির সোশাল মিডিয়া পোস্টে কোচবিহারের শীতলকুচির নামের বদলে লেখা হল 'শীতলকুচ'। বিজেপির ভুল নামের পোস্ট সমাজ মাধ্যমে শেয়ার করে তীব্র নিন্দা করে তৃণমূল কংগ্রেস। 'বাংলার মাটি-মানুষ-ইতিহাস-ভূগোল কিছুই জানে না বিজেপি।' কটাক্ষ রাজ্যের শাসকদলের।
প্রথম দফার ভোটের (West Bengal Elections 2026) আগে শেষ রবিবার উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে নির্বাচনী জনসভা করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডা। মূলত, সেই নির্বাচনী সভার কথা উল্লেখ করেই নাড্ডার ছবি-সহ সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয় বঙ্গ বিজেপির তরফে। আর সেখানেই হয়ে যায় গন্ডগোল। বিজেপির পোস্টে লেখা হয়, 'পশ্চিমবঙ্গের শীতলকুচে জনসভা করছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা।' এরপরই উড়ে আসে তীব্র সমালোচনার ঝড় ।
বিজেপির পোস্ট শেয়ার করে তৃণমূলের তরফে লেখা হয়, 'শীতলকুচির মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নামটাই ঠিকমতো লিখতে পারে না বিজেপি। 'শীতলকুচি'কে বানিয়ে দিয়েছে 'শীতলকুচ'! আর সেই সভাতেই বক্তব্য রাখছেন জে. পি. নাড্ডা। এটাই প্রমাণ করে, বাংলার মাটি, মানুষ, ইতিহাস বা ভূগোল, কিছুই তাদের জানা নেই। ভোটের আগে বাংলায় এসে বড় বড় কথা বলা সহজ, কিন্তু যাদের কাছে জায়গার নামটাই অপরিচিত, তারা কীভাবে এই রাজ্যের দায়িত্ব নেবে? এটা শুধু একটা বানান ভুল নয়, এটা বাংলার প্রতি বিজেপির উদাসীনতা ও অজ্ঞতার স্পষ্ট প্রমাণ।'
কয়েকদিন আগেই বঙ্গে ভোটপ্রচারে এসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে 'রবিশঙ্কর' উচ্চারণ করে বিতর্কে জড়িয়েছেন জেপি নাড্ডা। যোগীর মুখে শোনা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের বদলে 'উত্তরবিহার'। আলিপুরদুয়ার বলতে গিয়ে শাহের মুখ ফসকে বেরিয়ে এসেছিল 'আলিরাজপুর'। এবার নাম বিভ্রাটে নতুন সংযোজন 'শীতলকুচ'।
উল্লেখ্য, ঠিক ৫ বছর আগে একুশের নির্বাচনে ভয়ঙ্কর স্মৃতি জড়িয়ে এই শীতলকুচির মাটিতে। শীতলকুচির জোড়া পাটকিতে ১২৬ নম্বর বুথের বাইরে সিআরপিএফের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেছিলেন ৪ জন ভোটার। বিনা প্ররোচনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা গুলি চালিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। যা নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে জলঘোলা কম হয়নি। এবার সেই শীতলকুচির নাম 'মিসটেকে' মুখ পুড়ল বঙ্গ বিজেপির।
