বেশ কিছুদিন আগেই বিজেপির দাবাং নেতা দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার (Dilip Ghosh-Rinku Majumder) বিধানসভায় প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। জমা দিয়েছিলেন বায়োডাটাও। কিন্তু বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হতেই দেখা গিয়েছে রাজারহাট-নিউটাউন আসনে পীযূষ কানোরিয়াকে ভরসা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তাতেই বেজায় চটেছিলেন দিলীপ-জায়া। তবে স্ত্রীর বক্তব্যের দায় তাঁর নয় বলে সাফ জানিয়েছেন দিলীপ। তাতেই সুর নরম রিঙ্কুর। এখন তাঁর বক্তব্য, "আমি কোনওদিনই টিকিটের জন্য মরিয়া ছিলাম না। তবে আমার আসনে যাকে প্রার্থী করা হয়েছে তিনি সঠিক মানুষ নন।"
বিজেপি প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার পর ‘সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল’কে রিঙ্কু মজুমদার বলেছিলেন, "এতগুলো বছর ধরে কোন দল করলাম, কাদের জন্য করলাম?" প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিষোদগার করে তিনি বলেন, "রাজারহাট-নিউটাউন ও বীজপুরে যে প্রার্থীদের দাঁড় করানো হয়েছে, তাঁরা আর্থিক দুর্নীতি-সহ একাধিক কুকাজে যুক্ত। আমি সুনীল বনশালজিকে একথা জানিয়েছি। জানি না,দল কোন সমীক্ষার ভিত্তিতে এঁদের প্রার্থী করল, কিন্তু দলের এসব লোকজনের আসল পরিচয় শীর্ষ নেতাদের জানানো আমার কর্তব্য। তাই ওঁকে বলেছি।" দিলীপপত্নীর মুখে এহেন 'দলবিরোধী' মন্তব্য নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জলঘোলা হয়।
দিলীপ সাফ বলেন, "রিঙ্কু মজুমদার আমার স্ত্রী হওয়ার আগে বিজেপির কর্মী। আর প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর অনেকেই উষ্মাপ্রকাশ করেছেন। কে কী বলছেন, তাঁর দায় আমার নয়।"
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এনিয়ে মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি সাফ বলেন, "রিঙ্কু মজুমদার আমার স্ত্রী হওয়ার আগে বিজেপির কর্মী। আর প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর অনেকেই উষ্মাপ্রকাশ করেছেন। কে কী বলছেন, তাঁর দায় আমার নয়।" অর্থাৎ স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, স্ত্রীর বক্তব্যের কোনও দায়িত্ব তিনি নেবেন না। এরপরই দেখা গেল, সুর নরম রিঙ্কুদেবীর। কার্যত ডিগবাজি খেয়ে এবার তিনি বলছেন, "সংবাদমাধ্যম আমার বাইট কেটে ব্যবহার করছে। ফলে ভুল বুঝছে মানুষ। টিকিট পেতে আমি মরিয়া কোনওদিনই ছিলাম না। অনেকেই বায়োডাটা দিয়েছে, আমিও দিয়েছিলাম। দল যাকে ঠিক মনে করেছে, টিকিট দিয়েছে।" তবে রাজারহাট-নিউটাউনের প্রার্থীকে যে তার পছন্দ নয়, তা এদিনও বলেছেন রিঙ্কু। তাঁর কথায়, একাধিক অভিযোগে বিদ্ধ, দলবদলু নেতার বদলে কোনও সজ্জনব্যক্তিকে টিকিট দিলে দলেরই লাভ হতো।
