ভরপুর আত্মবিশ্বাস। মঞ্চে দাঁড়িয়ে আসন সংখ্যা বাঁধলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর চ্যালেঞ্জ, ''বিজেপি ১৭৭ আসন পাবেই।'' একেবারে অঙ্ক কষেই ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের হিসেবনিকেশ করে দিচ্ছেন বিজেপির নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের প্রার্থী!
কিন্তু নির্বাচনের (WB Assembly Election 2026) আগেই এমন পরিসংখ্যান কীভাবে তিনি বলে দিতে পারেন, প্রশ্ন তুলে সরব তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী তথা দমদমের তৃণমূল প্রার্থী ব্রাত্য বসু বলেন, ''নির্দিষ্ট করে ১৭৭ কীভাবে বলছেন শুভেন্দু? তবে কি ইভিএম হ্যাক করার পরিকল্পনা হয়ে গিয়েছে? আমরা সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারছি না।'' এভাবেই হেভিওয়েট বিজেপি নেতাকে খোঁচা দিলেন তৃণমূল নেতা।
শুভেন্দুর বক্তব্য '২০১৬ সালে ৩, ২০২১-এ ৭৭, এবারে ১৭৭-এর নিচে নামবে না। ২০১৬ ও ২০২১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মার্জিন কত করবেন সেটা আপনারা ঠিক করবেন, কত বাড়াবেন। সমাজদার কে লিয়ে ইশারা হি কাফি হ্যয়!'
বুধবার রামনগরে বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর মণ্ডলের সমর্থনে কর্মিসভা করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে দাঁড়িয়েই শুভেন্দুর বক্তব্য, ''২০১৬ সালে ৩, ২০২১-এ ৭৭, এবারে ১৭৭-এর নিচে নামবে না। ২০১৬ ও ২০২১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মার্জিন কত করবেন সেটা আপনারা ঠিক করবেন, কত বাড়াবেন। সমাজদার কে লিয়ে ইশারা হি কাফি হ্যয়।''
কিন্তু ভোটের আগেই কীভাবে আসন সংখ্যা নিয়ে ভবিষদ্বাণী দিচ্ছেন বিরোধী দলনেতা? ব্যাখ্যা দিতে গিয়েই ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। উঠে আসে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ আর ডিনারের তত্ত্ব। ভোটারদের নাম বাদ পড়ার প্রসঙ্গে সুকৌশলে টেনে শুভেন্দুর কথায়, ''প্রথম রাউন্ড ব্রেকফাস্ট। তাতে বাদ গিয়েছে ৫৮ লক্ষ। লাঞ্চে বাদ ৭ লক্ষ। এখনও ডিনার হয়নি।''
বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে ব্রাত্য বসু বলেন, ''ভোট এখনও হয়নি, ফল প্রকাশ তো দূরের কথা, তবুও নির্দিষ্ট সংখ্যা কীভাবে জানলেন? তবে কি আগেই পরিকল্পনা হয়ে গিয়েছে? ইভিএম হ্যাকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।'' কটাক্ষ ব্রাত্যর। ভোটের আগেই ফল নিয়ে বিজেপির 'আত্মবিশ্বাসী' অঙ্ক নিয়ে তৃণমূল প্রশ্ন তুলতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা তুঙ্গে। তবে কি মানুষের রায়দানের আগে নিজেরাই নিজেদের ঢাক পেটাতে শুরু করে দিল গেরুয়া শিবির?
