shono
Advertisement

Breaking News

WB Assembly Election 2026

'অধিকাংশ প্রার্থীকে পাড়ার লোকেও চেনে না', শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করে বিজেপির অন্দরে বিদ্রোহ

এই টানাপোড়েন সামনে আসে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে দল আর জি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার মাকে প্রার্থী করা নিয়ে। দলের একটি বড় অংশের দাবি, তাঁকে প্রার্থী করতে রাজি ছিলেন না রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যরা। কিন্তু বিরোধী দলনেতার জোরাজুরিতে তাঁকে প্রার্থী করতে বাধ্য হয় দল। যা নিয়ে প্রবল অসন্তোষও তৈরি হয়েছে দুজনের মধ্যে।
Published By: Kousik SinhaPosted: 01:01 PM Mar 30, 2026Updated: 02:37 PM Mar 30, 2026

প্রার্থী নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষের জেরে শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করে কার্যত ভোটে (WB Assembly Election 2026) বিদ্রোহের পর্ব শুরু হয়ে গেল বিজেপির অভ্যন্তরে। নিশানায় রয়েছেন দুই নেতা। একজন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, আরেকজন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দল ১৯টি আসন ছেড়ে বাকি আসনগুলিতে প্রার্থী দিয়েছে। শীর্ষ রাজ‌্যস্তরের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, এই প্রার্থীদের মধ্যে অধিকাংশকেই পাড়ার লোকেও চেনে না। যা নিয়ে ব্যাপক টানাপোড়েনের জেরে সরাসরি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও আরএসএসের একটি অংশের দিকে তোপ দেগে চলেছেন রাজ‌্যস্তরের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই শীর্ষস্তরে খেলা শুরু হয়েছে। রাজ্যের শাসক দলের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগসাজশে আরএসএস এবং শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্বের নির্দেশমতোই সুনীল বনসল ও শমীকরা রাজ্যে একতরফা প্রার্থী ঠিক করেছেন। তাঁরাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী করে আনতে চাইছেন। 

Advertisement

এই টানাপোড়েন সামনে আসে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে দল আর জি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার মাকে প্রার্থী করা নিয়ে। দলের একটি বড় অংশের দাবি, তাঁকে প্রার্থী করতে রাজি ছিলেন না রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যরা। কিন্তু বিরোধী দলনেতার জোরাজুরিতে তাঁকে প্রার্থী করতে বাধ্য হয় দল। যা নিয়ে প্রবল অসন্তোষও তৈরি হয়েছে দুজনের মধ্যে। এই কারণেই এই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করতে টালবাহানা চলছিল। সোশাল মিডিয়াতেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করে তোপ দাগা চলছে। যেখানে সরাসরি শমীক ভট্টাচার্য এবং তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী রাহুল সিনহাকেও নিশানা করেছেন কেউ কেউ। যার মূল বক্তব্য, ‘এঁরা দুজনে হারের রেকর্ড করেছিলেন। বামফ্রন্ট যখন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সেই সময় শমীক একবারমাত্র একটা উপনির্বাচনে জিতেছিলেন তৃণমূলের দয়ায়। জীবনে তাঁদের জয়ের কোথাও কোনও সম্ভাবনা নেই।’

এই টানাপোড়েন সামনে আসে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে দল আর জি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার মাকে প্রার্থী করা নিয়ে। দলের একটি বড় অংশের দাবি, তাঁকে প্রার্থী করতে রাজি ছিলেন না রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যরা। কিন্তু বিরোধী দলনেতার জোরাজুরিতে তাঁকে প্রার্থী করতে বাধ্য হয় দল। যা নিয়ে প্রবল অসন্তোষও তৈরি হয়েছে দুজনের মধ্যে। এই কারণেই এই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করতে টালবাহানা চলছিল।

এরই প্রেক্ষিতে দলের প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ‌্যতার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, এঁরা সকলে শমীক ভট্টাচার্যের মতো, শিক্ষিত-ভদ্র। কিন্তু ভোটে (WB Assembly Election 2026) জেতার জন্য কী কী করণীয় তার কোনও বাস্তব ধারণাই নেই। সোশাল মিডিয়ায় এমন একজনের দাবি, ‘শমীক এখন তাঁর বন্ধুদের সুবিধা পাইয়ে দিতে এভাবে ভোটের ময়দানে তঁার পছন্দের প্রার্থীদের নামিয়েছেন।’ জানা যাচ্ছে, শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে দলের প্রার্থীদের জন্য প্রচারের অর্থ-সাহায্যও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু হার নিশ্চিত বুঝে তার কোনও কিছু খরচ করা হচ্ছে না। পৌঁছচ্ছে না দলের নিচুতলা পর্যন্ত। সবই হয় প্রার্থী বা দলের শীর্ষস্তর পর্যন্ত এসেই কার্যত ‘হাওয়া হয়ে যাচ্ছে’। সুনীল বনসলকে সরাসরি নিশানা করে দলের একটি অংশের দাবি, ‘এইভাবে দুর্বল প্রার্থী বাছাইয়ের কারণ কখনওই বিজেপির স্বার্থে হতে পারে না। সুনীল বনসলের অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’

প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষের জেরে বিজেপি নেতৃত্বের যখন ছত্রখান অবস্থা, তার মধ্যে বিজেপি কিছু কিছু জায়গায় উল্টে তৃণমূলের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ তুলেছে। যা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পাল্টা বিজেপির ভিতরের এই টানাপোড়েনের দিকে ইঙ্গিত করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। শুভেন্দু নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই কেন্দ্রের প্রার্থী। কুণালের দাবি, “আত্মবিশ্বাস নেই বলেই দুটো আসনে দাঁড়িয়েছেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামের দুটো ব্লকের মধ্যে নন্দীগ্রাম ১ থেকে এবার তৃণমূলের পবিত্র কর লিড বাড়িয়ে ১২ হাজারে যাবেন। আর নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লক অন্তত ৬ থেকে ৮ হাজারের লিড পাবে। পবিত্র কর জিততে চলেছেন। আর ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্তত ৫০ হাজারে জিততে চলেছেন।” এই ইস্যুতেই বিজেপির কোন্দলের কথা বলে কুণালের কটাক্ষ, “শমীকবাবুরা শুভেন্দুর উত্থান চান না। শমীক ভট্টাচার্য আর সুকান্ত মজুমদাররা মিলে গ্যাস খাইয়ে শুভেন্দুকে বলি হতে পাঠিয়েছেন। ওঁরা চান শুভেন্দু হারুক। আর দিলীপবাবুদের লোকেরা তো শুভেন্দুর বিরোধিতা করছে। বিজেপিতে বড় বড় ভাইয়েদের খেলা চলছে।” তাঁর কথায়, “শুভেন্দু পার্টিটা হাইজ্যাক করতে চেয়েছিল দিলীপ ঘোষ আর শমীকদের হাত থেকে। শমীকরা সেটা পুনরুদ্ধার করে চিরতরে শুভেন্দুকে গঙ্গার জলে ফেলতে চলেছে। শুভেন্দু আগে তাঁদের সামলাক।”

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement