কোভিডকালে এলোপাথাড়ি অ্যান্টিবায়োটিকের মাশুল। রক্ত আমাশা আর সারছে না অ্যান্টিবায়োটিকে। বাঙালি বিজ্ঞানীর গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। শীঘ্রই যে গবেষণা প্রকাশিত হতে চলেছে আন্তর্জাতিক আমেরিকান সোসাইটি অফ মাইক্রোবায়োলজির জার্নালে।
সম্প্রতি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা ওষুধের বিরুদ্ধে জীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করেছিল জেআইএস ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ। যৌথ সহযোগিতায় ছিল সেন্টার ফর হেলথ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন বা নিরবি। সেখানেই শিউরে ওঠা নতুন তথ্য পেশ করেছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন বা নিরবির বিজ্ঞানী ডা. আশিসকুমার মুখোপাধ্যায়।
সম্প্রতি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা ওষুধের বিরুদ্ধে জীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করেছিল জেআইএস ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ। যৌথ সহযোগিতায় ছিল সেন্টার ফর হেলথ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন বা নিরবি। সেখানেই শিউরে ওঠা নতুন তথ্য পেশ করেছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন বা নিরবির বিজ্ঞানী ডা. আশিসকুমার মুখোপাধ্যায়।
কী উঠে এসেছে নয়া গবেষণায়? রক্ত আমাশার জন্য দায়ী শিগেলা ব্যাকটেরিয়া। এই শিগেলা ব্যাকটিরিয়ার কিছু স্ট্রেন এখন মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স। অর্থাৎ ওষুধ আর কাজ করছে না তার বিরুদ্ধে! উল্লেখ্য, ভয়ংকর সংক্রামক অসুখ রক্ত আমাশা। মূল উপসর্গ পাতলা পায়খানা, মলের সঙ্গে রক্ত। এ অসুখে অন্ত্রের ভিতরের লাইনিংয়ে আক্রমণ করে শিগেলা ব্যাকটিরিয়া। সেখানে তৈরি হয় প্রদাহ। এতদিন অ্যান্টিবায়োটিকে তা সারানো গেলেও এখন কাজ করছে না ওষুধ। বঙ্গের বিজ্ঞানী ডা. আশিসকুমার মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, গবেষণায় শিগেলা ব্যাকটিরিয়ার একটি স্ট্রেনের মধ্যে 'এক্স ডি আর পজিটিভ'-এর ক্ষমতা দেখা গিয়েছে। কী এই 'এক্স ডি আর' পজিটিভ? এর অর্থ এক্সটেনশিভলি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট। অর্থাৎ সব ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে রক্ত আমাশার কারণ এই ব্যাকটিরিয়া।
ডা. আশিসকুমার মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কোভিড কালের আগে এমনটা ছিল না। কোভিড আবহে মুড়ি-মুড়কির মতো অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েছে আমজনতা। ডক্সিসাইক্লিন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, সেফোট্যাক্সিম পাগলের মতো কিনে খেয়েছে অনেকে। অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের দুর্বল ব্যাকটিরিয়াকে মারতে পেরেছে। কিন্তু যেগুলো মিউটেটেড হয়ে বেঁচে গিয়েছিল তাদের নতুন প্রজন্ম ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে গিয়েছে। অনেক ব্যাকটিরিয়ারই স্ট্রেন ক্রমশ ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট বা অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলেছে। আতঙ্কের কথা আরও! রক্ত আমাশার কারণ এই শিগেলা প্লাজমিড মিডিয়েটেড। অর্থাৎ শিগেলা ব্যাকটিরিয়ার মূল ডিএনএ ছাড়াও এর মধ্যে আলাদা ছোট ডিএনএ থাকে। সেটাকেই বলে প্লাজমিড। এই প্লাজমিডে রেজিস্ট্যান্স বা প্রতিরোধক জিন থাকে। ভয়ের বিষয়, শিগেলা এই প্লাজমিডের মাধ্যমে অন্য ব্যাকটেরিয়াকে রেজিস্ট্যান্স জিন দিতে পারে। আগামীর কথা ভেবে তাই আতঙ্কিত চিকিৎসকরা।
মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে হাজির ছিলেন আইসিএমআর-এর অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স টিমের প্রধান ডা. কামিনী ওয়ালিয়া। তিনি জানিয়েছেন, "আমজনতা যাতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে না খান সেই সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার।"
