শান্তিপূর্ণ প্রথম দফা ভোটের পরই আসানসোলে নির্বাচন পরবর্তী হিংসা! শুক্রবার রাতে কংগ্রেস কর্মীর খুনের ঘটনা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল শনিবার সকালে। জানা যাচ্ছে, আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এলাকার একটি আবাসনের বাসিন্দা দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের উপর হামলা চালিয়ে শুক্রবার রাতে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন আসানসোল উত্তরের কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডি।
কংগ্রেস প্রার্থীর সরাসরি অভিযোগ, রাতে বাড়ি ফেরার সময় দেবদীপের গাড়ি ঘেরাও করে তাঁকে এমন মারধর করা হয়েছে যে তাঁর মৃত্যু ঘটে গিয়েছে। এর নেপথ্যে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা রয়েছে বলেই অভিযোগ তাঁর। এনিয়ে এলাকার পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। বিরোধী রাজনৈতিক মহল এই ঘটনাকে ভোট পরবর্তী হিংসার প্রথম বলি হিসেবে দেখছে। যদিও এই ঘটনায় এখনও পুলিশে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। মৃতদেহ আসানসোল দক্ষিণ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে রেখে বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে।
আসানসোল দক্ষিণ ফাঁড়ির সামনে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ। নিজস্ব ছবি
এনিয়ে কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডির অভিযোগ, ‘‘আমি যে আবাসনে থাকি, সেখানেই দেবদীপ থাকে। আবাসনের সকলের মতো ও আমার হয়ে প্রচার করেছিল। শুক্রবার রাতে স্ত্রী, বাচ্চাকে নিয়ে গাড়িতে ফিরছিল। একদল দুষ্কৃতী পথ আটকায়। সবাই গাড়ি থেকে নেমে এলে স্ত্রী ও বাচ্চাকে গাড়িতে উঠে যেতে বলে ওরা। দেবদীপের সঙ্গে বচসা হয়। তাতে ও আমার নাম করে জানায় যে নালিশ করবে। আমার নাম শুনেই ওরা রেগে গিয়ে ওকে মারতে থাকে। লাথি, ঘুসি মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দেয়। তাতে ও মারা যায়। এরা সব তৃণমূলের পোষা গুন্ডা। রাতদুপুরে বেরিয়ে এসব কাজ ছাড়া কিছু করতে জানে না। এই ঘটনার বিহিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রতিবাদ করে যাব।''
যদিও তৃণমূল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে। জেলা তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাশু বলেন, ''কংগ্রেসের এখানে এমনও জোর নেই যে তাকে সরানোর পরিকল্পনা করতে হবে। আর তৃণমূলের কি কাজ নেই, একজন কংগ্রেসের হয়ে ভোটপ্রচার করেছে বলে তাঁকে খুন করে দেবে? আসলে কংগ্রেসের হাতে আর কোনও ইস্যু নেই। তৃণমূলকে বদনাম করতে এসব বলছে। তবে যা ঘটেছে, সেটা অত্যন্ত জঘন্য। আমরা পুলিশের কাছে দাবি করছি, যথাযথ তদন্ত হোক।''
