বাম জোটে জট! একই আসনে জোটভুক্ত দলগুলির প্রার্থী ঘোষণা। আইএসএফের (ISF) বিরুদ্ধে, বিশ্বাসঘাতকতা, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ছক কষার অভিযোগ। সব মিলিয়ে 'ছাব্বিশের যুদ্ধে'র আগে দ্বন্দ্বে জেরবার বামফ্রন্ট।
প্রথম প্রার্থী তালিকা ঘোষণা থেকেই সেলিমে ক্ষুব্ধ ফরওয়ার্ড ব্লকের নরেন! শ্যামপুকুর-সহ কয়েকটি আসন নিয়ে ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে সমস্যা দেখা দেয় সিপিএমের। তবে তা মিটেও যায়। কিন্তু আইএসএফ প্রিয়াঙ্কা বর্মনকে মধ্যমগ্রামে প্রার্থী ঘোষণা করতেই সেই আগুনে ঘি পড়ে। আইএসএফ সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি করেছে বলে অভিযোগ করেছে ফব। ক্ষুব্ধ অল ইন্ডিয়া ফরওর্য়াড ব্লকের সাধারণ সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, তাঁরা মধ্যমগ্রাম আসনে প্রার্থী দেবেন। সেই ঘোষণা মতো, বাম-আইএসএফ জোট ‘ভুলে’ মধ্যমগ্রামে কমরেড নিতাই পালকে প্রার্থী করেছে এই বাম শরিকদল।
এই আসনে প্রার্থী দিতে বাধ্য করা হল বলে দাবি করে, বিজ্ঞপ্তি জারি করে ফরওয়ার্ড ব্লক লিখেছে, 'সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, ২০২১ সাল থেকে আমাদের পার্টি আইএসএফের সঙ্গে দূরত্ব রেখেছে। কিন্তু বামফ্রন্টের শরিক হিসেবে আমাদের কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের পার্টিকে মধ্যমগ্রামে বিধানসভা কেন্দ্র প্রার্থী মনোনয়ন দিতে বাধ্য করা হল। মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থী কমরেড নিতাই পাল।'
আরএসপির দাবি, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে মেরুকরণ বজায় রেখে ভোট রাজনীতিতে ফায়দা তুলতে চাইছে আইএসএফ। সেক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বামফ্রন্টের বাধ্যবাধকতাকে।আইএসএফ বিশ্বাসভঙ্গ করেছে বলেও অভিযোগ তুলেছে এই বাম শরিক দল।
শুধু ফরওয়ার্ড ব্লক নয়, 'বিদ্রোহ ঘোষণা' করেছে আরেক শরিক দল আরএসপিও। তারা জানিয়েছে, আইএসএফের সঙ্গে জোটের প্রশ্নে তাঁদের আপত্তি থাকলেও বামপন্থার পুনর্জাগরণ, মানুষের রুজি-রুটির স্বার্থে সেই জোট মেনে নিয়েছিল তারা। কিন্তু আইএসএফের ভূমিকা বামফ্রন্ট গৃহীত কৌশলের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। তাই তারাও বাসন্তী ও খানাকুলে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তরুণ আইনজীবী ও কবি কমরেড এডভোকেট সমর বিশ্বাসকে বাসন্তী থেকে প্রার্থী করেছে আরএসপি। খানাকুলে তারা খুব তাড়াতাড়ি প্রার্থী ঘোষণা করবে। পাশাপাশি ভাঙরে সিপিআই (এম) লিবারেশনের প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে আরএসপি।
আরএসপির দাবি, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে মেরুকরণ বজায় রেখে ভোট রাজনীতিতে ফায়দা তুলতে চাইছে আইএসএফ। সেক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বামফ্রন্টের বাধ্যবাধকতাকে।আইএসএফ বিশ্বাসভঙ্গ করেছে বলেও অভিযোগ তুলেছে এই বাম শরিক দল।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইএসএফ। নওশাদ সিদ্দিকীর দাবি, "আরএসপি মিথ্যা বলছে। তারা যদি অন্যকিছু ভাবত তাহলে দল ৪৪ আসনেই লড়াইয়ের সিদ্ধান্তেই স্থির থাকত। নওশাদ বলেন, "জোট নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। এবার একাধিক আসন জিতব। ভোটের (WB Assembly Election 2026) দিন সাধারণ মানুষ প্রতিরোধ করবে।"
