তৃণমূলের চাপে প্রথম দফা ভোটের চার দিন আগে তথ্যে ধোঁয়াশা রেখেই নতুন ভোটারের সংখ্যা জানাল কমিশন। গোটা রাজ্যে এবার প্রায় ৭ লক্ষ নতুন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নতুন ভোটারদের মধ্যে প্রথম দফায় ৩ লক্ষ ২২ হাজারের নাম তালিকায় উঠেছে। আর ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার ৭৪৭ নতুন ভোটার বেড়েছে দ্বিতীয় দফায়। কিন্তু এই ৭ লক্ষ নতুন ভোটারের বয়স বিভাজন গোপন রাখা হয়েছে। এমনকী, পুরুষ ও মহিলার সংখ্যা আলাদা করেও দেওয়া হয়নি। ফলে সবে ১৮ বছর পেরনো কতো ভোটার তালিকায় উঠেছে বা বাইরের রাজ্যের মানুষের নাম তোলা হয়েছে কিনা সেই জবাব দেয়নি কমিশন। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় ২৮ ফেব্রুয়ারি কমিশন প্রকাশিত তালিকায় নতুন ভোটারের সংখ্যার সঙ্গে পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়া নতুন ভোটারের সংখ্যার ফারাক রয়েছে। আর এই ফারাক প্রায় ৫ লক্ষ! ফলে তৃণমূলের তরফে ফর্ম-৬ নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছিল তা সত্য প্রমাণ হতে চলেছে। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, ফর্ম- ৬ এর মাধ্যে বিহার ও উত্তর প্রদেশের ভোটারদের নাম বাংলায় ঢোকানো হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়। সে দিন ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ২০৭ জন নতুন ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। ওই দিন পর্যন্ত নতুন ভোটার হয়েছেন ৬ লক্ষ ৯৬ হাজার ৮২৪ জন। অর্থাৎ, এক মাসে আরও প্রায় ৫ লক্ষ নতুন নাম যুক্ত হয়েছে। কিন্তু কত ফর্ম-৬ জমা পরেছে বা কত বাতিল হয়েছে সেই তথ্য গোপন রেখেছে কমিশন। সবচেয়ে বেশি নাম উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে। খসড়ার পর থেকে দু’দফার ভোটের মনোনয়ন জমার আগে পর্যন্ত ফর্ম-৬ জমা নিয়েছে কমিশন। সেই তথ্য বলছে, প্রায় ৭ লক্ষ ভোটার ফর্ম-৬ জমা দিয়ে তালিকায় নাম তুলেছেন। অন্য দিকে, বর্তমান ভোটার তালিকার হিসাবে পুরুষদের তুলনায় মহিলা ভোটার সংখ্যা বেশি কমেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়। সে দিন ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ২০৭ জন নতুন ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। ওই দিন পর্যন্ত নতুন ভোটার হয়েছেন ৬ লক্ষ ৯৬ হাজার ৮২৪ জন। অর্থাৎ, এক মাসে আরও প্রায় ৫ লক্ষ নতুন নাম যুক্ত হয়েছে। কিন্তু কত ফর্ম-৬ জমা পরেছে বা কত বাতিল হয়েছে সেই তথ্য গোপন রেখেছে কমিশন।
কমিশন জানিয়েছে, বিধানসভা ভোটের মোট ভোটার সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৮২ লক্ষ ৫১ হাজার ৮। ট্রাইবুনালের বিচারপতিদের নিষ্পত্তির যদি কিছু ভোটারের নাম যুক্ত হয় তাহলে সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। নতুন ভোটারদের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা থেকেই ৭১ হাজারের বেশি নাম উঠেছে। প্রায় ৪৪ হাজার নতুন নাম ভোটার তালিকায় যোগ হয়েছে কলকাতায়। এ ছাড়া খসড়া এবং চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটাররাও রয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবে বিবেচনাধীন সংখ্যা এর মধ্যে নেই। সম্প্রতি ফর্ম-৬ জমা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তৃণমূলের দাবি, সিইও দফতরে বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম-৬ জমা দিচ্ছে বিজেপি। বিষয়টি নিয়ে গত ৩০ মার্চ সিইও দফতরে অভিযোগ জানাতে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গুচ্ছ গুচ্ছ ফর্ম-৬ জমার বিষয়টি স্বীকারও করে নেয় কমিশন। তাদের বক্তব্য, আইন অনুযায়ী যে কোনও ভোটার একাধিক ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় তোলার জন্য আবেদন করতে পারেন। সব আবেদন এবং নথি খতিয়ে দেখেই নাম তোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই অবস্থায় তৃণমূলের অভিযোগ জানানোর পরে আট দিনে কত নতুন নাম যোগ হয়েছে তা স্পষ্ট করেনি কমিশন।
বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আগে রাজ্যে মোট ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। পরে খসড়া তালিকায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ যায়। ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ। এখন মোট ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৮২ লক্ষ ৫১ হাজার। অর্থাৎ, এসআইআরের পরে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের মোট ভোটার কমেছে ৮৩ লক্ষ ৮৬ হাজার ৫২১। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে পুরুষের তুলনায় বেশি কমেছে মহিলা ভোটার। খসড়ার তালিকা প্রকাশের পরে মহিলা ভোটার কমেছে ৩.৮ শতাংশ। ৩.৫ শতাংশ কমেছে পুরুষ ভোটার। এখন রাজ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৩ কোটি ৪৯ লক্ষ ৩৫ হাজার। এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৩৩ লক্ষ ১৪ হাজার। কমিশন জানিয়েছে, ট্রাইবুনাল থেকে নাম যোগ না এলে এই সংখ্যক ভোটারকে নিয়েই বিধানসভা ভোট হবে।
