উনিশের লোকসভা ভোটের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন রাজীব কুমারকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। কলকাতার পুলিশ কমিশনারের স্থলাভিষিক্ত হন রাজেশ কুমার। কাট টু ২০২৬। বছর সাতেক পর সেই দুঁদে পুলিশ আধিকারিকই বিজেপির 'তুরুপের তাস'। জগদ্দলে প্রার্থী হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে তাঁকে। বিপক্ষে তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যাম। জনসমর্থনের লড়াইয়ে দুঁদে রাজনীতিক নাকি কলকাতার প্রাক্তন সিপি শেষ হাসি হাসেন, সেদিকেই নজর সকলের।
১৯৯০ ব্যাচের প্রাক্তন আইপিএস রাজেশ কুমার (Rajesh Kumar)। ২০০৯ সালে কেন্দ্রের ইউপিএ সরকার গঠনের পর রাজেশ কুমার সৌগত রায়ের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। মুকুল রায় রেলমন্ত্রী হওয়ার সময় তাঁর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন রাজেশ কুমার। মুকুল রায়ে অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন তিনি। মনমোহন সরকার পতনের পর বিজেপি মন্ত্রী চন্দ্রেশ কুমারী কাটৌচের ওএসডি ছিলেন। সূত্রের খবর, সেই সময় বিজেপি এবং সংঘ পরিবারের অনেকের সঙ্গে তাঁর সখ্য তৈরি হয়। মাঝে ২০১৪ সালে আবার মুকুল রায়ের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব তৈরি হয়। সেই সময় নাকি বিজেপি ও মুকুলের সন্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রাজেশ কুমারের।
এরপর ২০১৬ সালে ফের ঘাসফুল শিবিরে স্বমেজাজে ফেরেন মুকুল। সেই সময় মুকুলের সুপারিশেই নাকি রাজেশ কুমারের কলকাতায় ফেরা। রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগের সিআইডি এডিজি করা হয়। এরপর ২০১৭ সালে তাঁকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের মুখে এই রাজেশ কুমারকেই কলকাতার পুলিশ কমিশনার করে নির্বাচন কমিশন। তবে মিটতে না মিটতে ফের রাজীব কুমারকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার করা হয়। রাজেশ কুমার ফের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা রয়েছে রাজেশ কুমার। শুধু তাই নয় দিল্লির বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রয়েছে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারের। আর সেই রাজেশ কুমারকেই জগদ্দলের প্রার্থী করেছে বিজেপি। শুভেন্দু এবং গেরুয়া শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগই রাজেশ কুমারের প্রার্থীপদের ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর। এই প্রথমবার ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ রাজেশ কুমার। প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে জগদ্দলে তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যাম। গতবার ১৮ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছিলেন তিনি। রাজনীতিতে 'নব্য' রাজেশ কুমারের লড়াই দুঁদে রাজনীতিক সোমনাথ শ্যামের বিরুদ্ধে। কে শেষ হাসি হাসেন সেটাই দেখার।
