দ্বিতীয় তালিকায় প্রার্থী বদল করল বিজেপি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর বিধানসভায় প্রার্থী বদল করেছে পদ্ম শিবির। তাতেও গণ্ডগোল! এই আসনটি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে সাধারণ ক্যাটাগরির বিশ্বজিৎ খাঁকে। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ বিজেপির নেতা কর্মীরা। বিস্মিত প্রার্থী নিজেই।
বিজেপির প্রথম তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, অগ্নিশ্বর নস্করকে বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁর নামে ইতিমধ্যে দেওয়াল লিখন, প্রচার শুরু করে দেয় বিজেপি কর্মীদের একাংশ। কিন্তু প্রার্থী নিয়ে দলে একাংশের ক্ষোভ থাকায় অগ্নিশ্বরকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁকে সাতগাছিয়ায় প্রার্থী করেছে বিজেপি। অগ্নিশ্বরের জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছে বিশ্বজিৎ খাঁকে।
বিষ্ণুপুর তফসিলি কেন্দ্রে বিশ্বজিতের নাম চূড়ান্ত হওয়ায় দলের অন্দরেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মীরাও অবাক। ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলা বিজেপির একাংশের প্রশ্ন, "পার্টির কি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে? তফসিলি সংরক্ষিত কেন্দ্রে দল এমন একজনকে প্রার্থী করা হল যিনি তফসিলি অন্তর্ভুক্তই নন!"
দল ছেলেখেলা করছে বলে ক্ষোভ বিজেপি কর্মীদেরই। আবারও বিষ্ণুপুর বিধানসভায় প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি করা হচ্ছে। সুফল ঘাঁটুকে প্রার্থী করার দাবি তুলেছেন ওই কর্মীরা। যদিও ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য সুফল ঘাঁটু নিজে এ ব্যাপারে মুখ খুলতেই রাজি হননি।
উল্লেখ্য, বিষ্ণুপুর ও সাতগাছিয়ায় যে দু'জনকে প্রার্থী করা হয়েছে তাঁরা বছর পাঁচেক আগে সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১-এর নির্বাচনে অগ্নিশ্বর বিষ্ণুপুর তফসিলি কেন্দ্রে বিজেপির টিকিটে লড়েছিলেন। কিন্তু জিততে পারেননি। অন্যদিকে সাতগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বর্তমানে বিজেপির ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক। এবার তাঁকে টিকিট দেওয়া হল।
অন্যদিকে মাদারিহাটের বিজেপি প্রার্থী নিয়েও ক্ষোভ কর্মীদের মধ্যে। দ্বিতীয় দফার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় লক্ষ্মণ লিম্বুকে প্রার্থী করা হয়েছে। নাম ঘোষণা হতেই পার্টি অফিসে তালা ঝুলিয়ে লক্ষ্মণ লিম্বু দূর হটো স্লোগান উঠল। প্রথম দফার তালিকা প্রকাশের পর আলিপুরদুয়ার বিধান সভার প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই দলের জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এবার মাদারিহাটেও বিজেপির প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ ছড়ালো।
