নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী এবার জিততে পারবেন তো? ভাঙড়ের ফলাফলই বা কী! অভয়ার মা? পানিহাটির মানুষ ওঁকে কি জেতাবেন। আর অর্জুন সিং? বামেরা এবার খাতা খুলতে পারবে, না কি এবারও শূন্য! এ যেন টিভি চ্যানেলের টক শো। ভোটের ফলাফল বেরোতে আর এক মাসও বাকি নেই। তার আগে রাজ্যে পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন? তা নিয়ে শহরের একাধিক সাট্টাবাজারে চলছে দর ওঠানামা। তবে তাতেও যেন ট্রেন্ড বদলেছে এবার। রাজ্যে ক্ষমতায় কে আসছে, তার চাইতে লোকে বেশি টাকা লাগাচ্ছেন আসন ধরে ধরে।
যে সমস্ত আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সেগুলো ঘিরেই চলছে টাকা লাগানোর খেলা। এমনকী, এক্ষেত্রে কার জনসভায় কতটা ভিড় হচ্ছে, তার খবরও নিয়মিত রাখছেন তাঁরা। বদলাচ্ছে সিদ্ধান্তও। এখন আবার চলছে আইপিএল। কিন্তু ভোটের বাজারে আইপিএলে বাজিতে খুব একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিন নিত্যনতুন বাজি ধরার ট্রেন্ড আসছে ভোটকে কেন্দ্র করে। তবে রাজ্যে যে পুনরায় তৃণমূলই ফিরছে তা একপ্রকার নিশ্চিত প্রত্যেকেই। কলকাতার বড়বাজারের সোনাপট্টি। ভোট এলে এখানেই ভিড় বাড়তে থাকে। সোনা কেনার নয়! বরং বাজি ধরার। ভোট যত এগিয়ে আসে ততই জমে ওঠে এখানে জুয়ার বাজার। ওঠে বড় বড় টাকার বাজি। স্থানীয়ভাবে এখানে অনেকেই জানেন, সাট্টাবাজার চলে। কিন্তু তা তো বে-আইনি। "অনেক কিছুই তো বে-আইনি দাদা। টাকা লাগাবেন কি না বলুন। তা হলে ভিতরে নিয়ে যাব। পুলিশি হয়রানি আছে। ধরপাকড়ও চলে। তবে ওই আর কী!"
প্রতিদিন নিত্যনতুন বাজি ধরার ট্রেন্ড আসছে ভোটকে কেন্দ্র করে। তবে রাজ্যে যে পুনরায় তৃণমূলই ফিরছে তা একপ্রকার নিশ্চিত প্রত্যেকেই। কলকাতার বড়বাজারের সোনাপট্টি। ভোট এলে এখানেই ভিড় বাড়তে থাকে। সোনা কেনার নয়! বরং বাজি ধরার। ভোট যত এগিয়ে আসে ততই জমে ওঠে এখানে জুয়ার বাজার। ওঠে বড় বড় টাকার বাজি।
শনিবার বিকেলে কথা বলতে বলতেই সিগারেট ধরালেন কালো শার্ট পরিহিত মাঝবয়সী এক ব্যক্তি। গলায় গোটা চারেক চকচকে চেন। হাতে বালাও। পরিষ্কার জানালেন, রেট এখনও তৃণমূলের দিকেই। মাঝেমধ্যেই ধরপাকড় হয়। তবুও ভোট এলে এখানেও যেন উৎসব। গণতন্ত্রের এই বাজারে সাট্টা বাজারের নির্ভুলতা অতীতে অনেক ক্ষেত্রে বোকা বানিয়েছে বড় বড় ভোটকুশলীকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয় কি না সেটাই দেখার। পোস্তা, বড়বাজার থেকে ঠাকুরপুকুর। ভোটকে ঘিরে বহু জায়গাতেই পুনরায় অ্যাক্টিভ সাট্টা সিন্ডিকেট। ভাঙড়ে নৌশাদ সিদ্দিকি বনাম শওকত মোল্লার লড়াই, সাট্টার ঠেকে যথেষ্ট ভালো রেট উঠছে এই আসন ঘিরে। বাজি ধরা চলছে বরাহনগর আসন ঘিরেও। যেখানে তুল্যমূল্য লড়াই তৃণমূলের সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজেপির সজল ঘোষের। মাঝে রয়েছে বামেদের সায়নদীপ। এমনকী, আলোচনার টেবিলে রয়েছে যাবদবপুরও।
সিন্ডিকেটের এক সদস্যের কথায়, অন্তত গোটা চল্লিশেক আসন রয়েছে, যেগুলিকে ঘিরে টাকা লাগানোর প্রবণতা বেশি। কারণ সেগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকী, এসআইআরের প্রভাব কার অনুকূলে যাবে, তা নিয়েও চলছে টাকার খেলা। তবে সার্বিক নির্বাচনের ফলাফলের ক্ষেত্রে এক টাকায় যেখানে তৃণমূলের পক্ষে বাজি দেড় টাকা, সেখানে বিজেপির পক্ষে তিন টাকা। কলকাতার ফাটকা বাজারে তৃণমূলের পক্ষেই বাজি ধরছেন ব্যবসায়ীরা। বিজেপি যতই প্রচার করুক, এবার রাজ্যের পরিবর্তন। কিন্তু ফাটকা বাজার বলছে, আসলে পরিবর্তন নয়, প্রত্যাবর্তন। শুধু কলকাতার নির্বাচনই নয়, সেখানে পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল নিয়েই চলছে বাজি ধরাধরি। বাংলায় তৃণমূলের পক্ষেই বাজি ধরছেন বেশি। মনে করা হচ্ছে এবার তৃণমূল পেতে পারে ১৭৮-১৮৫টি আসন। বিজেপি ১০০টির কাছাকাছি। তবে সাট্টাবাজরা জানাচ্ছেন, এখনও অনেক সময় বাকি। আরও হালচাল দেখে রেট ওঠানামা করবে।
