প্রসিদ্ধ বেকারি ব্যবসায়ী। তাঁর বেকারিতে তৈরি পাউরুটি খায় গোটা দার্জিলিং। শৈলশহরে গিয়ে তাঁর জনপ্রিয় হোটেল গ্লেনারিজে যাননি এমন পর্যটক বোধহয় হাতে গোনা। সেই গ্লেনারিজ কর্তা অজয় এডওয়ার্ডেরই হাতছাড়া 'ব্রেড'। ভোটের ময়দানে প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত বিড়ম্বনায় ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের কনভেনার।
ব্যবসায়ী হিসাবেই প্রসিদ্ধ অজয় এডওয়ার্ড। গত ২০২১ সালে হামরো পার্টির প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় তাঁর দলের প্রতীক ছিল 'ব্রেড'। তাই অনেকেই তাঁর দলকে কটাক্ষ করতেন। কেউ কেউ 'তসরুটি পার্টি' বলে সমালোচনার সুর চড়াতেন। বলে রাখা ভালো, নেপালি ভাষায় পাউরুটিকে 'তসরুটি' বলা হয়। দলগঠনের মাত্র তিনমাসের মধ্যে দার্জিলিং পুরসভার ভোটে জয়ের মুখও দেখে হামরো পার্টি। ২০২২ সালে জিটিএ ভোটে লড়ার সময় তাঁর প্রতীক ছিল পাউরুটি। দার্জিলি সদর ২ আসনে জয়ী হন তিনি। মাঝে নাম বদলায় গ্লেনারিজ কর্তার দলের। বর্তমানে ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট (আইজিজেএফ) নামেই পরিচিত এডওয়ার্ডের দল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও (WB Assembly Election 2026) লড়ছেন তারা। কালিম্পং, কার্শিয়াং, শিলিগুড়ি ও মাটিগাড়া নকশালবাড়ি কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছেন তাঁরা। দার্জিলিং থেকে নিজেই দাঁড়িয়েছেন এডওয়ার্ড। তিনি চান তাঁর দলের প্রত্যেক প্রার্থী পাউরুটি প্রতীকে লড়ুন।
তবে সেই প্রতীক নিয়ে যত বিড়ম্বনা। হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট রেজিস্টার্ড দল নয়। তাই এই দলের প্রত্যেক প্রার্থীকে নির্দল প্রার্থী হিসাবেই ধরা হচ্ছে। নিয়ম বলছে, নির্দল প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনের তরফে তিনটি প্রতীক দেওয়া হয়। তাঁদেরও দেওয়া হয়েছিল। আবার এদিকে, যতীন গুরুং নামে আরেকজন নির্দল প্রার্থী পাউরুটি প্রতীকের আবেদন করে বসে রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয় পাউরুটি 'যুদ্ধ'। বাধ্য হয়ে টসের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। তাতেই শেষমেশ দেখা যায় এডওয়ার্ড হেরে গিয়েছেন। ফলে হাতছাড়া পাউরুটি। এবার তাঁকে বাধ্য় হয়ে সাতরঙা কলমের নিব প্রতীক লড়তে হবে অজয় এডওয়ার্ডকে। যাঁর পাউরুটি খেয়ে গোটা দার্জিলিংয়ের পেট ভরে, সে-ই গ্লেনারিজ কর্তারই পাউরুটি হাতছাড়া হওয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চলছে জোর চর্চা।
