মণিপুরে দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু মালদলের বিএসএফ জওয়ানের! মৃতের নাম মিঠুন মণ্ডল। দুঃসংবাদ বাড়িতে আসার পরেই শোকে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের লোকজন। ছেলের অকালমৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন জওয়ানের বাবা মন্টু মণ্ডল। মৃতদেহ গ্রামে আসার ব্যবস্থা হচ্ছে বলে খবর। দুই শিশুকে নিয়ে অথৈ জলে স্ত্রী।
জানা গিয়েছে, বছর ৩৪ বয়সী মিঠুন ১৭০ ব্যাটালিয়নের বিএসএফ পদে নিযুক্ত। মণিপুরে উখরুল জেলায় তিনি কর্মসূত্রে নিযুক্ত ছিলেন। জানা গিয়েছে, গতকাল শুক্রবার বিকেলে তিনি উখরুল জেলার মংকোট চেপুতে টহল দিচ্ছিলেন। সেসময় কোনও জায়গা থেকে একটি গুলি এসে তাঁর শরীরে বেঁধে। মিঠুনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। কিছু সময়ের মধ্যেই মারা যান ওই জওয়ান। কে বা কারা গুলি চালাল? সেই বিষয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত।
মালদহের মোথাবাড়ির উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাগজান টোলা এলাকার মিঠুনের বাড়ি। ওই দুঃসংবাদ রাতেই মালদহের বাড়িতে পৌঁছয়। কান্নার রোল ওঠে বাড়িতে। বছর ৬১ বছরের বৃদ্ধ বাবা মন্টু মণ্ডল পেশায় কৃষিজীবী। বৃদ্ধা মা গৃহবধূ। তাঁদের দুই সন্তান। বড় ছেলে মিঠুন ছিলেন পরিবারের অন্যতম উপার্জনকারী। ছোটভাই বাবার সঙ্গে জমিতে চাষের সাহায্য করেন। বছর ছয়েক আগে মিঠুনের সঙ্গে এলাকারই বাসিন্দা তরুণী সুলেখার বিয়ে হয়েছিল। ওই দম্পতির পাঁচ ও তিন বছর বয়সী ছোট শিশুও রয়েছে।
স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী সুলেখা। দুই সন্তানকে নিয়ে অসহায় পরিস্থিতি তাঁর। বড় ছেলেকে হারিয়ে হতভম্ব বাবা। এরপর সংসার কীভাবে চলবে? সেই আশঙ্কাতে ভুগছে পরিবার। দুই সন্তানকে কীভাবে বড় করবে? সেই দুশ্চিন্তায় সুলেখা রয়েছেন। পরিবারের দাবি, গতকাল সন্ধ্যা প্রায় ৭টার সময় ডিপার্টমেন্ট থেকে ফোনে জানানো হয়— “মিঠুনের গুলি লেগেছে, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।” প্রায় ১৫ মিনিট পর আবার ফোন করে জানানো হয়, “মিঠুন শহিদ হয়েছেন।”
দুঃসংবাদ পাওয়ার পর প্রতিবেশীরাও শোকগ্রস্ত। ওই পরিবারকে সমবেদনা জানানোর জন্য মিঠুনের বাড়িতে ভিড় করেছেন প্রতিবেশীরা। মৃতদেহ গ্রামে নিয়ে আসার ব্যবস্থা হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে।
