বিশাল মঞ্চ বাঁধা রয়েছে। নেতারা আছেন। মূল বক্তা হুমায়ুন কবীরও (Humayun Kabir) আছেন। কিন্তু যাঁদের জন্য বক্তব্য রাখবেন, নেই সেই সাধারণ মানুষ! অগত্যা, সভায় না গিয়ে এক বেসরকারি অনুষ্ঠান ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। আজ, মঙ্গলবার বীরভূমের মাড়গ্রামে জনসভা করার কথা ছিল হুমায়ুনের। কিন্তু জনসভায় কোনও লোকই হল না। গোটা মাঠ কার্যত খাঁ খাঁ করল। মঞ্চের সামনে কিছু কচিকাঁচাকে কেবল হইহল্লা করতে দেখা গেল! ভোটের (West Bengal Assembly Election) আগেই কি মানুষের সমর্থন হারালেন হুমায়ুন? ভাইরাল ভিডিওর দরুণ কি মানুষজন মুখ ফিরিয়ে নিল হুমায়ুনের থেকে? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
রাজ্যে ১৮২টি আসনে ভোটে লড়ার কথা বলেছিলেন। ১৫০টির বেশি আসনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি লড়াই করছে। এমনই শেষপর্যন্ত জানা গিয়েছে। হেলিকপ্টারে ঘুরে ঘুরে প্রচার শুরু করলেও হুমায়ুনের সভায় লোক হচ্ছে না! কেবল কপ্টার দেখতে মানুষজন ভিড় করছেন! এমনই বিষয় সামনে আসছিল। এবার বীরভূমের মাড়গ্রামের সভায় সেই ছবিই ধরা পড়ল। মাড়গ্রাম হাই মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় নেতারা উপস্থিত হলেও সভা করা গেল না! কারণ, গোটা মাঠ কার্যত লোকশূন্য। সেই কথা শুনে আর সভাস্থলেই গেলেন না হুমায়ুন! রামপুরহাটের একটি বেসরকারি অনুষ্ঠান ভবনে পরে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিলেন!
বীরভূমের মাটিতেও তাঁর ব্যাপক জনসমর্থন আছে। সেই কথা হুমায়ুন জোর গলায় দাবি করার পরেও কেন সাধারণ মানুষজন এল না? জনতা উন্নয়ন পার্টির স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, সভাস্থলে মানুষজনকে আসতে দেওয়া হয়নি, চার-পাঁচ কিমি দূরে সমর্থকদের বাস আটকে দেওয়া হয়েছে। ফাঁকা মাঠের জন্য তৃণমূলকেই দায়ী করেছেন হুমায়ুন। বীরভূম জেলায় ভয়ের রাজনীতি চলে! তৃণমূলের নেতারা বিরোধীদের ভয় দেখায়। সেকারণেই মানুষজন এদিন সভায় আসতে পারল না। এমনই দাবি করেছেন হুমায়ুন। তাঁর কপ্টার নামার জন্য হেলিপ্যাড তৈরির অনুমতিও প্রশাসন দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এই নেতা। আগামী ৪ তারিখের পর তৃণমূল সরকার থাকবে না, সেই কথা আবারও জোর গলায় দাবি করেছেন হুমায়ুন।
