shono
Advertisement
West Bengal Assembly Election

নবাবের জেলায় এবার বহুমুখী লড়াই, গড় রক্ষায় শেষ চেষ্টা অধীরের, কোন ফুলে ভরসা রাখবে মুর্শিদাবাদ?

২০২৬-এ গোটা রাজ্যের ভরকেন্দ্র যদি হয় ভবানীপুর, তাহলে অন্তঃকেন্দ্র মুর্শিদাবাদ জেলা।
Published By: Kousik SinhaPosted: 07:34 PM Apr 14, 2026Updated: 08:32 PM Apr 14, 2026

যেন এক টানটান সিনেমার স্ক্রিপ্ট। কোনও চরিত্র ৩০ বছরের গড় ফিরে পেতে মরিয়া, তো কোনও চরিত্র হায়দরাবাদ থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার পেরিয়ে এসে ভাবছেন, উলটেপালটে দেবেন জেলার সমীকরণ। আর কোনও চরিত্র ধর্মের আবেগ ধরতে গিয়ে 'লুকনো ক্যামেরা'য় বলে ফেলছেন 'গোপন কথা'। কোনও 'প্লটে' ওয়াকফ-আগুনে পুড়ে ছারখার একের পর এক বাড়ি, পড়ছে লাশ! কোনও দৃশ্যে হইহই করে মাথা তুলছে 'বাবরি মসজিদ'। আর ক্লাইম্যাক্সে? সব হিসেব ঘুরিয়ে দিচ্ছে এসআইআর। দূর থেকে একটা ফ্রেমের মধ্যে দেখলে বোধহয় মুর্শিদাবাদ জেলাটাকে এখন অনেকটা এরকমই লাগবে। লড়াই যে এবার কার সঙ্গে কার, বোঝা কঠিন। ভোটের (West Bengal Assembly Election) মাত্র দিন দশেক আগেও বদলাচ্ছে সমীকরণ। ২০২৬-এ গোটা রাজ্যের ভরকেন্দ্র যদি হয় ভবানীপুর, তাহলে অন্তঃকেন্দ্র মুর্শিদাবাদ জেলা।

Advertisement

ধুলিয়ান থেকে বেলডাঙা, অধীর চৌধুরীর হার থেকে বায়রন বিশ্বাসের উত্থান, হুমায়ুনের 'স্টিং' ভিডিও থেকে ওয়েইসির 'পালটি', গত পাঁচ বছরে অনেক কিছুর সাক্ষী থেকেছে ভাগীরথী। আর যাঁর মুখে ভাগীরথীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল, সেই হুমায়ুনই এবার নবাব সিরাজদ্দৌলার জেলায় বসে বলে বসলেন, 'সংখ্যালঘুদের বোকা বানানো খুব সহজ।' বহুমুখী লড়াইতে আদতে কার লাভ হবে? 

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাম আমলেও যে জেলায় কংগ্রেস নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছিল, তার নাম মুর্শিদাবাদ। তবে, ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে একটা নামই বদলে দিল কংগ্রেসের সমীকরণ। আরএসপি ছেড়ে অধীর চৌধুরী কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সময়ও হয়তো অনেকেই বুঝে উঠতে পারেননি, নবাবের জেলায় সাম্রাজ্য়ের অধিপতি, সব সাম্রাজ্যেরই পতন হয়। ২০২৪-এ সেই পতন দেখল বাংলা। এবার 'রবিনহুডে'র ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। তৃণমূলে থাকাকালীন আজকের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে সবার অলক্ষ্যে সংখ্যালঘু ভোট সরে গিয়েছে তৃণমূলের দিকে। তারই ফল দেখেছে ২০২১, ২০২৪। ২২টি বিধানসভা কেন্দ্রের ২০টিতেই জয় পেয়েছিল তৃণমূল। ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘুর জেলায় ২টি আসনে বিজেপির জয় মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে অন্য মোড় এনেছে।

তবে সব উত্থান-পতনের পর ২০২৬ একেবারে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতির পিছনে তিনটি 'এজেন্সি'র ভূমিকা আছে বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, একটি এজেন্সির নাম নির্বাচন কমিশন, দ্বিতীয় এজেন্সি অধীর চৌধুরী আর তৃতীয় হল মিম-হুমায়ুন কবীরের জোট। যদিও অভিষেকের এই বক্তব্যের পর ইতিমধ্যেই মিম-হুমায়ুন জোট ভেঙে গিয়েছে। বারবার বদলে যাওয়া সমীকরণে দিশেহারা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।

এদিকে, মুর্শিদাবাদ জেলায় যখন সব পক্ষ সংখ্যালঘু ভোট (West Bengal Assembly Election) জোটাতে ব্যস্ত, ৭০ আর ৩০ শতাংশের হিসেবে মশগুল, তখন বড় ধাক্কা দিয়েছে এসআইআর। একধাক্কায় জেলার প্রায় ৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর প্রভাব যে কোন শিবিরে পড়বে, তার হিসেব কষা শুরু হয়ে গিয়েছে।

মুর্শিদাবাদ জেলায় যখন সব পক্ষ সংখ্যালঘু ভোট জোটাতে ব্যস্ত, ৭০ আর ৩০ শতাংশের হিসেবে মশগুল, তখন বড় ধাক্কা দিয়েছে এসআইআর। একধাক্কায় জেলার প্রায় ৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর প্রভাব যে কোন শিবিরে পড়বে, তার হিসেব কষা শুরু হয়ে গিয়েছে।

নজরে কোন কোন কেন্দ্র
জেলায় মোট ২২টি বিধানসভা কেন্দ্র। এর মধ্যে বেশ কয়েকটির রাজনৈতিক গুরুত্ব শুধু জেলা নয়, গোটা রাজ্যের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। বহরমপুরে এবার অধীর-শক্তি রুখতে ময়দানে থাকবে বিজেপি-তৃণমূল উভয়েই। একুশে সুব্রত মৈত্রের হাত ধরে এই আসন ছিল বিজেপির দখলে। অন্যদিকে, এই জেলায় রয়েছে সেই সাগরদিঘি, যে কেন্দ্র উপনির্বাচনে তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী জোটকে অক্সিজেন জুগিয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই বিধায়ক 'হাত' ছেড়ে দেন। সেই বায়রন এবার তৃণমূলের প্রার্থী। এদিকে, একুশে মুর্শিদাবাদ প্রায় পুরোটাই আয়ত্তে এনে ফেললেও এবার সাত কেন্দ্রে তৃণমূলের বিধায়ক হয় বাদ পড়েছে, অথবা তাঁর কেন্দ্র বদল হয়েছে। কোনও কোনও কেন্দ্রে বিদ্রোহের সুরও মাথাব্যথা বাড়াচ্ছে শাসক দলের। তৃণমূলের হাতে থাকা রেজিনগর ও নওদায় 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর নিজেই প্রার্থী হয়েছেন। তাই সেই দুই কেন্দ্রে যেমন নজর থাকবে, নজর থাকবে বেলডাঙাতেও। বেলডাঙাতেই হাইওয়ের ধারে শিল্যানাস হয়েছে 'বাবরি মসজিদে'র। যদিও হুমায়ুনের স্টিং প্রকাশ্যে আসার পর মুহূর্তে বদলেছে হাওয়া।  

জেলার রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যায়, পদ্মের সংগঠন ক্রমশ শক্ত হচ্ছে মুর্শিদাবাদ, নবগ্রাম, জঙ্গিপুরে। তবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু সংখ্যালঘু ভোটারের নাম বাদ যাওয়ায় অধিকাংশ আসনে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অধীর-ফ্যাক্টর
না, তিনি বাদাম বিক্রি করছেন না। পদ গিয়েছে, সংসদীয় রাজনীতি থেকেও বিদায় নিতে হয়েছে। ইউসুফ পাঠানের মতো আনকোরা প্রার্থীর কাছে হেরেও রাজনীতি থেকে সরেননি অধীর চৌধুরী। নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে বসেন। সব ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া দেন। কংগ্রেস সভাপতির পদ না থাকলেও বাংলার রাজনীতিক থেকে আমজনতার কাছে যে অধীরই কংগ্রেসের মুখ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রায় ২৫ বছর ধরে সংসদীয় রাজনীতি করা অধীর অন্তত ৩০ বছর পর আবারও বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election) ময়দানে। তবে, তাঁর সামনেও একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কিন্তু অধীর ময়দানে নামতেই বাড়তি অক্সিজেন পেয়েছেন জেলার কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। এই প্রেক্ষাপটে এবার অধীর হাওয়ায় মুর্শিদাবাদের একাধিক বিধানসভা আসনে কংগ্রেসের পালে হাওয়া লাগার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এবারও অধীরের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ইউসুফ পাঠান! একেবারে মাটি আগলে একাধিক কেন্দ্রে তৃণমূলের হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। আর তা তৃণমূলকে নবাবের গড়ে অনেকটাই এগিয়ে রাখতে পারে বলে মত। 

 

বাবরি থেকে স্টিং, শিরোনামে হুমায়ুন
অধীর চৌধুরীর হাত ধরেই একসময় রাজনীতি করেছেন হুমায়ুন কবীর। কংগ্রেস-তৃণমূল-বিজেপি সব দল ঘুরে ফেলার পরও তৃণমূল তাঁকে টিকিট দিতে দ্বিধাবোধ করেনি। ভরতপুরে তাঁর জয়ের রেকর্ডই বেশি। এমনকী নির্দল হয়ে টেবিল চিহ্নে লড়েও তৃণমূলকে টপকে গিয়েছিলেন হুমায়ুন। সেবার মাত্র তিন হাজার ভোটে হেরে গিয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে, আর তৃণমূল প্রার্থীর থেকে ৬০ হাজার ভোট বেশি পেয়েছিলেন। সেই হুমায়ুনই তৃণমূল বিধায়ক থাকাকালীন ঘোষণা করেন বাবরি মসজিদ গড়ার। যা ভোটবঙ্গে বড় ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে! কিন্তু সব সাজানো বাগান তছনছ করে দিল একটা স্টিং অপারেশন! আর এই ভিডিও ঘিরে তোলপাড় জেলার রাজ্য রাজনীতি। বিশেষ করে সে জেলার একটা বড় অংশের সংখ্যালঘুদের মধ্যে এর প্রভাব পড়েছে। যেভাবে সংখ্যালঘুদের 'বোকা বানানো'র কথা বলতে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, তাতে তাঁর উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। 

মিমের গোপন খেলা
তৃণমূলের কথায়, তারা বিজেপির 'বি টিম'। পশ্চিমবঙ্গে মিম নতুন নয়। একুশের বিধানসভা নির্বাচনেও আইএসএফের সঙ্গে জোট বাঁধার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। কিন্তু ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে যেভাবে চর্চায় উঠে এসেছে মিমের নাম, তা কস্মিনকালেও দেখেনি পশ্চিমবঙ্গ। বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত ঘেঁষা বিধানসভা আসনগুলোতে যেভাবে জয় পেয়েছে ওই দল, তারপর থেকেই সন্দেহটা বাড়ছিল। আর তারপরই প্রকাশ্যে আসে, বিহার ঘেঁষা কয়েকটি জেলায় রীতিমতো জেলা সংগঠন তৈরি করে ফেলেছে তারা। এবার মুর্শিদাবাদ-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রার্থীও দিয়েছে মিম। ফলে ভোট কাটাকাটির একটা বড় আশঙ্কা রয়েছে। 

দগদগে ধুলিয়ান, রাজনীতির মঞ্চে দাস পরিবার
এপ্রিল ২০২৫। আর পাঁচটা বিক্ষোভের মতোই সংবাদমাধ্যমে এসে পৌঁছেছিল সামশেরগঞ্জের খবরটা। কিন্তু সেই আগুন যখন নিভল, তখন পাড়ায় পাড়ায়, অলিতে গলিতে উঠে এল বীভৎস ছবি। দগ্ধ কঙ্কালসার বাড়িগুলোর মধ্যে সংসার হাতড়ে বেড়াচ্ছে মানুষজন। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার ঠিক পরের দিন জাফরাবাদে উদ্ধার হয় পিতা-পুত্রের দেহ। রক্তে ভেসে যাচ্ছে। কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে।

কাট টু এপ্রিল ২০২৬। বিজেপির হয়ে ভোট প্রচার করছেন হিংসায় মৃত হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী পারুল দাস ও মৃত চন্দন দাসের স্ত্রী পিঙ্কি দাস। জানা যায়, হরগোবিন্দ দাসের পরিবার বাম-সমর্থক ছিল। কিন্তু নৃশংসভাবে খুনের ঘটনার পরও বামেদের তরফে কেউ যোগাযোগ করেনি বলে অভিযোগ ওঠে। সামসেরগঞ্জ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী ষষ্ঠীচরণ ঘোষ কে কি আলাদা কোনও অ্যাডভান্টেজ দেবে পারুল-পিঙ্কির উপস্থিতি? রাজনৈতিকমহলের মতে, সেই সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

বেলডাঙার প্রভাব ইভিএমে?
ভিনরাজ্যে বাঙালি শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল যে নড়েচড়ে বসলেন খোদ অমিত শাহ। এনআইএ-কে তুলে দেওয়া হল তদন্তভার। তাৎক্ষণিক ক্ষোভ নাকি কোনও বড় ষড়যন্ত্র বা উসকানি? প্রশ্ন ওঠে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ জেলার সংখ্যালঘু মানুষ। ফলে ভোটবাক্সে এর প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

বেলডাঙার অশান্তির ফাইল ছবি।

নজরে কোন প্রার্থী
অধীর চৌধুরী আর হুমায়ুন কবীরের পরেই নজরকাড়া প্রার্থী তালিকায় নাম আসে বায়রন বিশ্বাসের। উপনির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে জেতা বায়রন এবার তৃণমূলের প্রার্থী সাগরদিঘি থেকে। অন্যদিকে তৃণমূল ডেবরা থেকে ডোমকল নিয়ে এসেছে আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে। আইপিএস হিসেবে দীর্ঘ সময় মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ফলে ডেবরার থেকেও ডোমকল তাঁর কাছে সহজ হবে বলেই মনে করছেন তৃণমূলের হুমায়ুন। নবাবের মাটিতে লড়াই কঠিন এবার বিজেপির জন্যও। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে বিজেপির ভোট প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে বিজেপি প্রার্থী গৌরশঙ্কর ঘোষ ৯৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিজেপি সংশয়ে রয়েছে আর এক বিধায়ককে নিয়েও। যে বহরমপুর আসনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন সুব্রত মৈত্র, এবার সেখানেই প্রতিপক্ষ অধীর। কংগ্রেসের পুরনো কর্মী সুব্রত কি কোনও বিশেষ কৌশল সাজিয়ে রেখেছেন? এদিকে  বহরমপুরের বুকে প্রথমবার জোড়াফুল ফোটাতে মরিয়া রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূল প্রার্থী করেছে নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়কে। যিনি শহরের পুরপ্রধান। এলাকার পরিচিত নাম। এলাকায় শক্ত সংগঠন রয়েছে নাড়ুগোপালের। ফলে বহরমপুরের লড়াইয়ে এবার নজর থাকবে সবার। 

লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ থেকে হেরে গেলেও সম্প্রতি ওই জেলায় পাড়া বৈঠক শুরু করেছিলেন মহম্মদ সেলিম। ডোমকলের মতো হেভিওয়েট কেন্দ্রে বামেদের মুখ তরুণ নেতা মুস্তাফিজুর রানার এলাকায় সংগঠন রয়েছে। নজর থাকবে খড়গ্রামের বামপ্রার্থী আশিস মারজিতের দিকেও।

মুর্শিদাবাদের ইস্যু
এসআইআর: মুর্শিদাবাদ জেলায় এবার আসল 'নায়ক' এসআইআর। মীরজাফরের বংশধররাই বাদ পড়েছেন ভোটার তালিকা থেকে। নাম বাদের তালিকায় সবার উপরে রয়েছে মুর্শিদাবাদের নাম। এই জেলার ৪ লক্ষ ৫৫হাজার ১৩৭ জনকে অবৈধ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ৬ লক্ষ ৩৩হাজার ৬৭১জনের নাম তালিকায় উঠেছে। ফলে সবমিলিয়ে, জেলায় সাড়ে সাত লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে। রাজ্যের মধ্যে সামশেরগঞ্জ বিধানসভায় সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে। এসআইআর নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বিজেপির বিরুদ্ধে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

গঙ্গার ভাঙন: হাজারদুয়ারীর জেলায় একটা বড় ইস্যু গঙ্গার ভাঙন। ফরাক্কা থেকে শুরু করে সামশেরগঞ্জ, সুতি, ধুলিয়ান, ভগবানগোলা পর্যন্ত গঙ্গার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বহু মানুষ। বিশেষ করে সামশেরগঞ্জ ব্লকে প্রতি বছর বিঘার পর বিঘা জমি, বাড়ি এমনকী আস্ত গ্রাম তলিয়ে যায়। এই অঞ্চলের গঙ্গার পাড়ের মাটি মূলত পলিমাটি ও বালি মিশ্রিত, যা খুব সহজেই জলের টানে ধসে যায়। কেউ কেউ নদীর গতিপথ পরিবর্তনকে দায়ী করেন, কেউ বলেন ফরাক্কা ব্যারেজের কথা। এরমধ্যেই রয়েছে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত। আর এহেন অভিযোগ-পালটা অভিযোগের শিকার হচ্ছেন মুর্শিদাবাদের একটা বড় অংশের মানুষ। যার প্রভাব ভোট বাক্সে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

পরিযায়ী শ্রমিক: এই জেলার বহু মানুষ ভিনরাজ্যে কাজ করেন। সবদলের কাছেই বড় ফ্যাক্টর এই পরিযায়ী শ্রমিক। এছাড়াও ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে মুর্শিদাবাদের জেলার মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। যদিও এই বিষয়ে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, ওয়াকফ সম্পত্তি জোর করে কেড়ে নেওয়া হবে না। তবে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী শাসক-বিরোধী সবপক্ষই।

এই প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদ-বহরমপুর তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার জানান, আমরা আশাবাদী উন্নয়নের নিরিখে এবার জেলায় এবার বিরোধী শূন্য হবে। জেলার বাইশটি আসনে তৃণমূল প্রার্থীরা জয়ী হবে। অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য সুজীৎ দাস বলেন, জেলার বাইশটি আসনের মধ্যে এবার সাতটি আসনে বিজেপির জয় সুনিশ্চিত। এছাড়া বেশ কয়েকটি আসনে বিজেপি ভালো ফলাফল করতে চলেছে। জেলার সব আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী কংগ্রেসও। মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী জানান, মুর্শিদাবাদে এবার কংগ্রেস হারিয়ে যাওয়া জমি পূণরুদ্ধার করতে চলেছে। জেলার বাইশটি আসেন কংগ্রেস ভালো ফলে আশাবাদী।  

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement