ছাব্বিশের নির্বাচনে ভোটদানের হার নজিরবিহীন। প্রথম দফায় ১৫২ বুথে প্রায় ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে হিসাব করলে তথ্য বলছে অন্য কথা। ১৫২টি বিধানসভার ১০টিতে কমেছে ভোটারের সংখ্যা। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সূত্রে এমনই তথ্য পাওয়া গিয়েছে।
উত্তরবঙ্গে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, ফাঁসিদেওয়া, শিলিগুড়ি, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, মালদহের ইংরেজবাজার, মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা, ফরাক্কা, লালগোলা এবং সামশেরগঞ্জ, পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর সদরে ৮৮.৭ শতাংশের বেশি ভোটার নেই। কারণ, এই কেন্দ্রগুলি চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের সময়ের তুলনায় কমেছে ভোটার সংখ্যা। তথ্য বলছে, সামশেরগঞ্জে ১৮.৯ শতাংশ, খড়্গপুরে ৪.৭ শতাংশ, লালগোলায় ৪.৬ শতাংশ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি ৪ শতাংশ, ফাঁসিদেওয়ায় ৩.১ শতাংশ, ভগবানগোলায় ২.১ শতাংশ, ফরাক্কায় ১.৭ শতাংশ, ইংরেজবাজারে ০.৯ শতাংশ, শিলিগুড়িতে ০.৫ শতাংশ এবং মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে ০.২ শতাংশ ভোটারের সংখ্যা কমেছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, যে বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ভোটারের সংখ্যা কমেছে তার মধ্যে সামশেরগঞ্জ, লালগোলা, ভগবানগোলা এবং ফরাক্কা গত ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত থাকা বিদায়ী বিধায়কদের সকলেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। ২০১১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী, পাঁচটি জেলায় আবার মুসলমান ভোটারের সংখ্যা মোট জনসংখ্যা ৫০ শতাংশেরও বেশি। বাকি জেলাগুলিতে ১২ শতাংশ মুসলমানের বাস। এসআইআর আবহে বারবারই অভিযোগ উঠেছে, একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষের নামই মূলত বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগেই যেন সিলমোহর পড়ল। মনে করা হচ্ছে, সার্বিকভাবে বাংলায় এবার ভোটদানের হার বৃদ্ধির নেপথ্যে এসআইআর। এখন প্রশ্ন হল, এই বিপুল ভোটবৃদ্ধি কী ইঙ্গিত করে? সাধারণত বেশি ভোটের নির্বাচন সাধারণত কোনও ‘ওয়েভের’ বা বড় ঝড়ের ইঙ্গিত দেয়। সেটা শাসকের পক্ষেও হতে পারে বিপক্ষেও। বাংলায় এবারের নির্বাচনে ভোটবৃদ্ধির কারণ যেহেতু এসআইআর, সেক্ষেত্রে এসআইআর-এর বিরোধিতাও ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলতে পারে। আর সেটা হলে কিন্তু শেষ হাসি হাসতে পারে তৃণমূল।
