প্রথম দফায় ভোট (West Bengal Assembly Election) মিটে গিয়েছে হটস্পট নন্দীগ্রামে। তৃণমূলের পবিত্র কর নাকি বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী- জয়ের হাসি কে হাসবে, তা নিয়ে তুঙ্গে চর্চা। তারই মাঝে শুক্রবার নিজের গড় ডায়মন্ড হারবারের স্টেশন মোড়ে দাঁড়িয়ে 'সুপার কনফিডেন্ট' তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Abhishek Banerjee)। নন্দীগ্রামে তৃণমূল জিতবে বলেই দাবি তাঁর।
অভিষেক বলেন, "প্রথম দফার ভোটে তৃণমূল সেঞ্চুরি পার করে ফেলেছে। ১০৫-ও হতে পারে ১১০-ও হতে পারে। কোথায় গিয়ে থামবে জানি না। আর একটা সুখবর দিচ্ছি, নন্দীগ্রাম তৃণমূল কংগ্রেস জিতছে, নিশ্চিত থাকুন। আমি কথা দিয়ে গেলাম তৃণমূল নন্দীগ্রাম জিতছে।"
তৃণমূল প্রার্থী পান্নালাল হালদারের সমর্থনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন কপাটহাট থেকে স্টেশন মোড় পর্যন্ত রোড শো করেন। কাতারে কাতারে মানুষ সেই মিছিলে অংশ নেন। রোড শো শেষে সন্ধ্যায় ডায়মন্ড হারবার স্টেশন মোড়ে গাড়ির উপর দাঁড়িয়েই সভা করেন। সেখান থেকে দৃঢ় কণ্ঠে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের জয়ের কথা ঘোষণা করেন। তাঁর কথায়, "চব্বিশের লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবারের ঠিক এই জায়গাতে দাঁড়িয়েই যা বলেছিলাম তাই মিলে গিয়েছিল। এই মাটিতে দাঁড়িয়ে যা বলি তাই হয়। আজ একটা সুখবর দিতে এই ডায়মন্ড হারবারের মাটিই বেছে নিয়েছি। গতকাল যে ভোট হয়েছে সেই প্রথম দফার ভোটে তৃণমূল সেঞ্চুরি পার করে ফেলেছে। ১০৫-ও হতে পারে ১১০-ও হতে পারে। কোথায় গিয়ে থামবে জানি না। আর একটা সুখবর দিচ্ছি, নন্দীগ্রাম তৃণমূল কংগ্রেস জিতছে, নিশ্চিত থাকুন। আমি কথা দিয়ে গেলাম তৃণমূল নন্দীগ্রাম জিতছে।"
আর তারপরই অভিষেক সরাসরি অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ সাংবাদিক বৈঠকে বলেছেন আমি নাকি তাঁকে গালাগালি দিয়েছি। ১৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে একটা অপশব্দ কখনো কারোর বিরুদ্ধে বলিনি। আমাদের জন্ম, বেড়ে ওঠা যে মাটিতে, সেখানেই গুজরাটের, মধ্যপ্রদেশের গুন্ডারা এসে আমাদের ধমকাচ্ছে, চমকাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলছি, আপনি বাংলায় এসে তৃণমূলকে হুমকি দিচ্ছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনাকে বলছি, গরম পড়েছে। মাথা ঠান্ডা রাখুন, জল বেশি করে খান। আর সৎ সাহস থাকলে ৪ মে কলকাতায় থাকবেন। বেলা বারোটার পর দেখা হবে।"
বলে রাখা ভালো, নন্দীগ্রামে এবার ভূমিপুত্র পবিত্র কর বনাম ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারীর লড়াই। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর যতটা রাজনৈতিক জমি, পবিত্র করের তার তুলনায় খুব একটা কম নয়। তিনি বরাবর শুভেন্দুর সুহৃদ হিসেবে পরিচিত। একুশের ভোটে শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী হিসেবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন পবিত্রবাবু। কিন্তু বছর খানেক পর মোহভঙ্গ হয়। রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান তিনি। দু’জনের রাজনৈতিক পথ আলাদা হয়ে যায়। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের মাত্র কয়েকঘণ্টা আগে গত ১৭ মার্চ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে দলে যোগদান করেছিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার নন্দীগ্রামে একেবারে ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা’ তোলার পথে হেঁটেছে শাসক শিবির। তাই স্বাভাবিকভাবেই নন্দীগ্রামের ভোটের ফলের দিকে আপাতত নজর সকলের।
