বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটের (Bengal Election 2026) আগে চর্চায় উত্তরপ্রদেশের 'সিংঘম' অফিসার অজয় পাল শর্মা (Ajay Pal Sharma)। তিনি যোগীরাজ্যের ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ বলে পরিচিত। তাঁকে নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের পরিবারকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সোমবার অজয় পাল শর্মার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ফলতার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির কাছে গিয়ে সরাসরি তাঁর পরিবারের উদ্দেশে ধমক দিচ্ছেন জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক। সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই এই সিংহম অফিসারের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার পুরনো একটি অভিযোগ চর্চায় চলে এল। স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে!
অজয় পাল শর্মাকে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে ডায়মন্ড হারবারে নিযুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। অযথা ভোটার ও প্রার্থীকে হুমকি দিচ্ছেন, এই অভিযোগ তুলে অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়। আজ, মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতেই গার্হস্থ্য হিংসার পুরনো ওই অভিযোগের বিষয়টি চর্চায় আসে। এদিন শুনানির সময় মামলাকারীর আইনজীবী দাবি করেন, পর্যবেক্ষক একজন হিস্ট্রি শিটার। তাঁর স্ত্রীকেই নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে!
অভিযোগ, ২০১৬ সালে স্মৃতি দীপ্তি শর্মার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন অজয় পাল শর্মা। নিজের স্ত্রীর উপরই অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছিল অজয়ের বিরুদ্ধে। আইনজীবী এদিন দাবি করেন, ২০২০ সালে স্মৃতি দীপ্তি শর্মা উত্তরপ্রদেশের হাথরস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছিল। অজয়-সহ কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)ও তৈরি হয়েছিল একসময়। যদিও হাই কোর্টে হওয়া এই মামলা এদিন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। অযথা ভোটার ও প্রার্থীকে হুমকির মামলা খারিজ করে দিল আদালত। জানিয়ে দেওয়া হয়, ভোটের দায়িত্ব পাওয়া পুলিশ অফিসারদের নিয়ে মামলায় ২৯ তারিখ পর্যন্ত কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না।
