এবার সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে (Minakshi Mukherjee) নাম না করে পরিযায়ী বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। এবার উত্তরপাড়ায় হারলে পরের বারের জন্য জায়গা ঠিক করে নেওয়ার পরামর্শও দিলেন তিনি। আজ, শনিবার ইদের দিন সকালে উত্তরপাড়ার কোন্নগরে গিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে নিলেন তাঁর ছেলে শীর্ষণ্য। শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূল কংগ্রেস ওই কেন্দ্রে এবার প্রার্থী করেছেন। ছেলের হয়ে বাবা প্রচারে নামলেন বলেও খবর। এবার ওই কেন্দ্রে বামফ্রন্টের প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
এদিন সকালে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ও সেখানে ইদের অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে গিয়েছিলেন। সেখানে দুই প্রার্থীর মধ্যে সাক্ষাৎ হলে দু'জনের মধ্যে সৌজন্য বিনিময়ও হয়। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল সাংসদ বলেন, "বিজেপির কিছু নেই, সিপিএমের তো কিছুই নেই। ৩৪ বছর ধরে সিপিএম যা করেছে আর মুখ দেখানোর জায়গা নেই।" বাম প্রার্থী মীনাক্ষীকে নাম না করে তিনি বলেন, "আর সব পরিযায়ী প্রার্থী। একবার এখানে দাঁড়াচ্ছে, একবার ওখানে দাঁড়াচ্ছে, হারছে। এবারে আবার সিপিএম প্রার্থীকে অনুরোধ করছি পরের বারের জন্য জায়গাটা ঠিক করে রাখুন।"
উত্তরপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী কল্যাণপুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আজ ইদের দিন। তাই আজকে প্রচার নয়, সবাইকে ইদের শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলাম। সিপিআইএম প্রার্থীর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় হল। আমি ওনাকে বললাম, ভালো থাকবেন।"
উত্তরপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী কল্যাণপুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আজ ইদের দিন। তাই আজকে প্রচার নয়, সবাইকে ইদের শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলাম। সিপিআইএম প্রার্থীর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় হল। আমি ওনাকে বললাম, ভালো থাকবেন। এটা ব্যক্তি বিশেষের লড়াই নয়, এটা লড়াইটা মতাদর্শের।" এখনও পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়নি। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী বলেন, "ওদের চলে এজেন্সি দিয়ে। ইডি-সিবিআই-ইনকাম ট্যাক্স, এখন নির্বাচন কমিশন। আমি জ্ঞানেশ কুমারকে ইনভাইট করছি আপনি উত্তরপাড়ার প্রার্থী হন। আপনাকেও হারিয়ে দেব। কোনও ব্যাপার না।"
স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বিজেপিকে আক্রমণ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) বলেন, "নির্বাচন কমিশন অফিসারদের বদলি করেছে। ওটা নিয়ে একটা মামলা হয়েছে। অগণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন কমিশন চলছে। ভারতবর্ষের সংবিধানকে সম্মান দিচ্ছে না। নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নির্দেশে কাজ করছেন। সংবিধানের উপরে আইনের উপরে কেউ নয়।" তাঁর কটাক্ষ, "মানুষের ভালো করাটাই সংবিধানের লক্ষ্য। আর তিনি সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। যে দল ওনাকে পাঠিয়েছে, সেই দলের কী করে ভালো হয়, সেই চিন্তাভাবনা নিয়ে এগোচ্ছেন। ভারতবর্ষের সংবিধানে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে আঘাত করা হচ্ছে।" রাজ্যের ১২ কোটি মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছে বলেও জানিয়েছেন কল্যাণ।
