রাজনীতির ময়দানে কাদা ছোড়াছুড়ি যখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, তখন আসানসোলের কুলটি সাক্ষী থাকল এক বিরল ও সৌজন্যের আবহে মোড়া মুহূর্তের। যেখানে বিজেপি প্রার্থী অজয় পোদ্দার আশীর্বাদ নিলেন বাম আমলের দুঁদে নেতা তথা 'কুলটির পিতামহ ভীষ্ম' মানিক লাল আচার্যের।
তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে আসানসোল ছিল বামেদের লাল দুর্গ। আর সেই দুর্গের অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লকের মানিক লাল আচার্য। ১৯৯১ থেকে ২০০১-টানা তিনবারের বিধায়ক তিনি। সেই পুরনো দিনের দাপুটে নেতার ডিসেরগড়ের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন পদ্ম শিবিরের প্রার্থী অজয় পোদ্দার। শুধু হাতে নয়, সাথে ছিল ছিন্নমস্তা মন্দিরের প্রসাদ। অজয় পোদ্দার বলেন, "কুলটির উন্নয়নে মানিক বাবুর অবদান অনস্বীকার্য। ওনার মতো অভিজ্ঞ নেতার কুশল বিনিময় ও আশীর্বাদ পাওয়াই আমার পরম প্রাপ্তি।”
তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে আসানসোল ছিল বামেদের লাল দুর্গ। আর সেই দুর্গের অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লকের মানিক লাল আচার্য। ১৯৯১ থেকে ২০০১-টানা তিনবারের বিধায়ক তিনি। সেই পুরনো দিনের দাপুটে নেতার ডিসেরগড়ের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন পদ্ম শিবিরের প্রার্থী অজয় পোদ্দার। শুধু হাতে নয়, সাথে ছিল ছিন্নমস্তা মন্দিরের প্রসাদ।
এদিন কুলটিতে দেখা গেল এক অদ্ভুত রাজনৈতিক সমীকরণ। গুরুর ঘরে শিষ্যের প্রতিপক্ষ! এই সাক্ষাতের নেপথ্যে রয়েছে এক লম্বা রাজনৈতিক ইতিহাস, যা কোনও থ্রিলার সিনেমার থেকে কম নয়। গুরুর হার ২০০৬ সালে। এই মানিক লাল আচার্যকেই পরাজিত করেছিলেন তৃণমূলের উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। মজার বিষয় হল, উজ্জ্বল একসময় মানিক বাবুরই রাজনৈতিক শিষ্য ছিলেন। ফরওয়ার্ড ব্লক করতেন। শিষ্যের হার ২০২১ সালে। সেই উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে পরাজিত করে বিধায়ক হন বিজেপির অজয় পোদ্দার। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ২০২৬-এর লড়াইয়ে একদিকে যখন মানিকের 'ডান হাত' বলে পরিচিত ভবানী আচার্য ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী, তখন মানিক বাবুর আশীর্বাদ নিতে হাজির স্বয়ং বিজেপি প্রার্থী। দীর্ঘ ১০ বছর পর কুলটিতে ফের প্রার্থী দিয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক। ঘরের লোক প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি প্রার্থীর জন্য মানিক বাবুর অবারিত দ্বার অনেককেই অবাক করেছে।
