একহাতে ছাতা ধরা বিধায়কের মাথায়। অন্যদিকে তিনিই আবার তেড়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বিধায়কের উদ্দেশে। হ্যাঁ, ঘটনাটা শুনতে অবাক লাগলেও ঠিক এই ছবিটাই ধরা পড়ল আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে। চুনিয়া ঝোরা এলাকায় কুমারগ্রামের (Kumargram) বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী প্রচারে যেতে উপচে পড়ল ক্ষোভ। তাঁর গাড়ি এলাকায় ঢোকার আগেই শুরু হয় সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ। বাধ্য হয়ে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন তিনি।
রীতিমতো স্থানীয়দের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন মনোজ ওঁরাও। সেখানেই দেখা গেল, বিক্ষুব্ধদের মধ্যেই একজন বিধায়কের মাথা রোদ থেকে বাঁচাতে তাঁর মাথায় ছাতা ধরে আছেন। সেই সঙ্গেই চলছে তুমুল বাকবিতণ্ডা। তাঁকেই রীতিমতো আঙুল তুলে শাসানি দিতেও দেখা যায় বিধায়ককে। জনরোষ ঠেকাতে মাঠে নেমে হাল ধরে বাহিনী। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই এলাকা ছাড়েন মনোজ।
কুমারগ্রামের বিদায়ী বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ,"বিশেষ সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ প্রচার চলাকালীন আচমকাই ঘিরে ধরে হেনস্তা করে।" এমনকী গন্ডগোল পাকানোর পিছনে তৃণমূলের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করেন মনোজ ওঁরাও।
পালটা বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল সভাপতির দাবি, "কুমারগ্রামের বিজেপি প্রার্থী ভোট প্রচার করতে গিয়ে স্থানীয় ভোটারদের সাথে মারপিট করেছেন। যেটা একজন প্রার্থী হিসেবে নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ । এই রাবণ প্রার্থীকে ভোটের মাধ্যমে বধ করবে সাধারণ মানুষ।"
ভোটের (West Bengal Assembly Election) দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তাপ চড়ছে বঙ্গ রাজনীতিতে। গেরুয়া গড়েও প্রচারে বেরিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে বিজেপি প্রার্থীদের। তবে কি নিজেদের গড় বলে দাবি করা বিজেপির উত্তরবঙ্গেও হাওয়া বদলের পালা? ভোটবাক্সে কার পাল্লা ভারী হয়, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৪ মে পর্যন্ত।
