ভোটের বাংলায় প্রচারের নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠল চার্জশিট! তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে শনিবার কলকাতায় বসে ৩৫ পাতার চার্জশিট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রতিটি বিষয় ধরে ধরে 'মোটা ভাই জবাব চাই' নামে পালটা চার্জশিট দিয়েছে শাসকদলও। এবার তৃণমূল সুপ্রিমো শাহের নাম না করে 'দিল্লির জমিদার' বলে আক্রমণ করলেন। ফেসবুক পোস্টে মমতার সাফ বার্তা - ‘মানুষ জানে ছিনিয়ে নিতে নিজের অধিকার-/ শত বঞ্চনার জবাব দেবে, শোনো দিল্লির জমিদার।’ রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করে তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি, 'কোনও দুর্বৃত্তরা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে আমাদের পরাজিত করতে পারবে না।'
পোস্টে তিনি লেখেন, 'বাংলা কোনোদিন কারোর দয়া-দাক্ষিণ্যে বাঁচেনি, বাঁচবে না। আমরা আমাদের হকের অধিকার ছিনিয়ে নিতে জানি। কোনো দুর্বৃত্তরা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে আমাদের পরাজিত করতে পারবে না। সকল অনিষ্টকারীর গুপ্ত মন্ত্রণা ভেস্তে যাবে বাংলার মানুষের আশীর্বাদ-দোয়ায়।'
শনিবার একদিকে যখন অমিত শাহ নিউটাউনের অভিজাত হোটেলে বসে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপে বিদ্ধ করছিলেন, সেসময় জেলায় জেলায় ঘুরে ভোটপ্রচার করছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একেকদিনে তাঁর অন্তত তিনটি জনসভা থাকছে। দলীয় প্রার্থীদের হয়েই দলের সুপ্রিমোই দুয়ারে দুয়ারে ভোটের প্রচার করছেন। বুঝিয়ে দিচ্ছেন, তিনি এখনও জননেত্রী।
জনতার সামনে নতমস্তকে মমতা। ছবি: ফেসবুক
এদিন রানিগঞ্জ, রঘুনাথপুর ও কাশীপুরের প্রচারে সামগ্রিকভাবে বিজেপি বিরোধিতায় শান দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কোথাও কোনও নাম ধরে আক্রমণ করতে শোনা যায়নি। প্রচার শেষে শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো ফেসবুকে দিনভর প্রচারের কিছু ছবি পোস্ট করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর তার সঙ্গে নাম না করে অমিত শাহর চার্জশিট নিয়ে কড়া বার্তা। পোস্টে তিনি লেখেন, 'বাংলা কোনোদিন কারোর দয়া-দাক্ষিণ্যে বাঁচেনি, বাঁচবে না। আমরা আমাদের হকের অধিকার ছিনিয়ে নিতে জানি। কোনো দুর্বৃত্তরা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে আমাদের পরাজিত করতে পারবে না। সকল অনিষ্টকারীর গুপ্ত মন্ত্রণা ভেস্তে যাবে বাংলার মানুষের আশীর্বাদ-দোয়ায়।'
তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে অমিত শাহর চার্জশিট নিয়ে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তীব্র নিন্দা করেছেন। শাহকে 'জেলের কয়েদি' বলে উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্য, 'এমনভাবে চার্জশিট দেওয়া হল যেন প্রত্যেক বাঙালি একেকজন অপরাধী। ৪ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করলে আসল 'চার্জশিট' দেখতে পাবেন।'
