বঙ্গে ভোটযুদ্ধের ডঙ্কা বেজে গিয়েছে। ইতিমধ্যে বিজেপি, বামফ্রন্ট আংশিকভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে। তবে সকলের আগ্রহ শাসকদল তৃণমূলের প্রার্থীদের দিকে। ২৯৪ আসনে কে, কোথায় লড়বেন, তা জানতে মুখিয়ে বঙ্গবাসী। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটের বাড়ি থেকে সেই তালিকা ঘোষণার আগে একযোগে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে কড়া কড়া কথায় বিঁধলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিজেপির উদ্দেশে তাঁর কটাক্ষপূর্ণ প্রশ্ন, ''এত ভয় পাচ্ছেন কেন? শুভবুদ্ধির উদয় হোক।'' কমিশনকে বললেন, ''খেলাটা বিজেপির কথায় মেঘের আড়াল থেকে কেন? সরাসরি খেলুন না। সব আইন যখন ভঙ্গ করছেন, সরাসরি প্রচারে নেমে মঞ্চ করে মিটিং করুন। বিজেপির হয়ে দাঁড়ান না। হাসিমুখে বলব, যা ইচ্ছে করতে পারেন।''
আসলে রবিবার রাজ্যে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর রাতারাতি নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের বদল করেছে। তারপরও কয়েকঘণ্টার মধ্যে পুলিশ প্রশাসনেও ব্যাপক রদবদল করা হয়। এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া ভাষায় চিঠি লেখার পরও মঙ্গলবার কলকাতা ও বিভিন্ন পুলিশ কমিশনারেটের শীর্ষ আধিকারিকদের সরানো হয়।এনিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রশ্ন, ''এবার ডিজাস্টার হলে কে দেখবে? সব দায়িত্ব কমিশন, বিজেপিকে নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলার কিছু হলে কে দেখবে? কেন এসব করলেন? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার গণতন্ত্রের প্রতি ভরসা থাকলে বাংলাকে কেন টার্গেট করছেন, যত টার্গেট করবেন, তত বাংলার মানুষ প্রত্যাঘাত করবেন।ইদের আগে কেন সরালেন, দাঙ্গা লাগানোর অভিপ্রায় আছে নাকি?''
সেসবের পরিপ্রেক্ষিতেই এদিন প্রার্থী ঘোষণার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ''আপনাদের অনেক পরিকল্পনা, অনেক চক্রান্ত আছে। কিন্তু মনে রাখবেন, যাদের বদলি করেছেন, সবাই আমাদের অফিসার। বিজেপির জেতার সম্ভাবনা নেই। এসআইআর, গ্যাসের লাইনে দাঁড় করিয়ে মানুষকে হেনস্তা করা! নিজেরা বেলাইন হয়ে যাবেন। এটা বাংলা অস্মিতা রক্ষা, বাঙালি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এই লড়াইয়ে বাংলা, বাংলার মা-মাটি-মানুষ জিতবে। দিল্লি কা লাড্ডু জিতবে না। আমাদের হাত থেকে ম্যান পাওয়ার কাড়তে পারেননি। ভোট মানুষ দেয়, মনে রাখবেন।''
