বঙ্গে ভোটযুদ্ধ এবার জমে উঠল ঝালমুড়িতে। প্রথম দফা ভোটের আগের শেষ রবিবার জঙ্গলমহলে প্রচারে ঝড় তুলে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঝাড়গ্রামের সভার পর তিনি ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছেন এবং উপস্থিত জনতাকে খাইয়েছেন। ঝালমুড়ির দাম বাবদ ১০টাকাও দিয়েছেন দোকানিকে। ভোটের প্রচার করতে গিয়ে এভাবে তাঁর ঝালমুড়ি খাওয়া রাজনীতি বলে তোপ দেগেছে তৃণমূল। এবার এনিয়ে কটাক্ষ ছুড়লেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মুরারইয়ের সভা থেকে তাঁর মন্তব্য, ‘‘শুনলাম উনি (নরেন্দ্র মোদি) কাল ঝালমুড়ি খেয়েছেন। এসপিজি-কে দিয়ে মুড়ি বানিয়ে খেয়েছেন, আগে থেকে দোকানে মাইক-ক্যামেরা রাখা ছিল। সব নাটক! নাহলে ক্যামেরা কেন ছিল দোকানের ভিতর? শুনেছি, আবার দামও দিয়েছেন। ওঁর পকেটে ১০ টাকা থাকে নাকি?''
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়াকে 'নাটক' বলে কটাক্ষ করলেন। তাঁর কথায়, ‘‘ভোটের আগে এসে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন! তাও আবার এসপিজি-র তৈরি করা। ওই মুড়ি তো ওঁর এসপিজি নিজেরা বানিয়ে খাইয়েছে, দোকানদারের বানানো নয়। যত্ত সব নাটক! আগে থেকে দোকানে ক্যামেরা, মাইক সব ঢুকিয়ে তারপর গিয়ে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন! আবার দামও দিচ্ছেন। যে ভোটের আগে বলে, 'আমি চাওয়ালা', কেদারনাথের গুহায় চলে যান, ওঁর পকেটে ১০ টাকা থাকে নাকি?''
আসলে রবিবার ঝাড়গ্রামের যে দোকান থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ঝালমুড়ি খেয়েছেন, সেই দোকান ঘিরেই চলছে রাজনৈতিক আলোচনা। ভিনরাজ্য থেকে এসে প্রথমে ঠেলাগাড়িতে ব্যবসা শুরু করেছিলেন দোকানি বিক্রম সাউ। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যে পাকা দোকানঘরের বন্দোবস্ত হয়। রবিবার সেই বিক্রমের দোকানেই 'ঝালমুড়ি ব্রেক' নেন প্রধানমন্ত্রী। নিজেই সোশাল মিডিয়ায় সেই ছবি পোস্ট করেন। সেসব ছবি ভালো করে খুঁটিয়ে দেখলে স্পষ্ট হচ্ছে, দোকানের ভিতরে ছিল ক্যামেরা। নেটিজেনদের একাংশের মতে, এই ঝালমুড়ি খাওয়ার বিষয়টা পুরোটাই 'স্ক্রিপ্টেড।' তৃণমূলও একই বক্তব্য পেশ করেছে। এমনকী এই 'পরিকল্পিত রাজনীতি'র বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচার সূচিতে বদল ঘটিয়ে মঙ্গলবার ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী সভা করতে যাচ্ছেন।
সোমবার বীরভূমের মুরারইয়ের নির্বাচনী প্রচার থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়াকে 'নাটক' বলে কটাক্ষ করলেন। তাঁর কথায়, ‘‘ভোটের আগে এসে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন! তাও আবার এসপিজি-র তৈরি করা। ওই মুড়ি তো ওঁর এসপিজি নিজেরা বানিয়ে খাইয়েছে, দোকানদারের বানানো নয়। যত্ত সব নাটক! আগে থেকে দোকানে ক্যামেরা, মাইক সব ঢুকিয়ে তারপর গিয়ে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন! আবার দামও দিচ্ছেন। যে ভোটের আগে বলে, 'আমি চাওয়ালা', কেদারনাথের গুহায় চলে যান, ওঁর পকেটে ১০ টাকা থাকে নাকি?'' কটাক্ষ, পালটা কটাক্ষের বন্যায় একটা বিষয় স্পষ্ট - শেষবেলায় ঝালমুড়ি রাজনীতি জমিয়ে দিল ভোটযুদ্ধ।
