সংসদে নারী সংরক্ষণ বিল পাশ না হতেই বিরোধীদের অলআউট আক্রমণে নেমেছে মোদি সরকার। শনিবার সরকারি মঞ্চে জাতির উদ্দেশে ভাষণে আগাগোড়া কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূলের নাম ধরে ধরে তুলোধনা করেছেন মোদি। বিরোধীদের 'নারী বিদ্বেষী' বলে দাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। এবার মোদির বক্তব্যের পালটা জবাব দিয়ে টুইট করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
টুইটে মমতা লেখেন, 'এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে প্রধানমন্ত্রী সততার সঙ্গে বিষয়টির সমাধান না করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার পথ বেছে নিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে।' সংসদে তৃণমূলের মহিলা সদস্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মমতা লেখেন, 'লোকসভায় আমাদের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ৩৭.৯%। রাজ্যসভায় আমরা ৪৬% মহিলা সদস্যকে মনোনীত করেছি। নারী সংরক্ষণের বিরোধিতা করার প্রশ্নই ওঠে না।'
নারী সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়ায় মোদি সরকার বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন বলেই টুইটে দাবি করেন মমতা। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি উল্লেখ করেন,'মোদী সরকার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য নারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার ষড়যন্ত্র করছিল। আমরা যার বিরোধিতা করেছি। দেশের বিভাজন ও বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিকে অধিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক সীমানা পুনর্নির্ধারণের করার চেষ্টা করা হয়েছে। গণতন্ত্রের আঘাত আমরা চুপচাপ মেনে নেব না।'
শনিবার জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে 'ভণ্ডামি' বলে তোপ দাগেন মমতা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি লেখেন, 'মোদি যা করেছেন তা কাপুরুষোচিত, ভণ্ডামি। ক্ষমতা নিজের হাত থেকে ফসকে যেতেই বিরোধীদের আক্রমণে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।'
সমাজমাধ্যমে মমতার প্রশ্ন, '২০২৩ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর নারী সংরক্ষণ বিল পাস হওয়ার পর প্রায় তিন বছর অপেক্ষা কেন করা হল? যখন বেশ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচন চলছে, তখন কেন তড়িঘড়ি এই বিল পাশ করাতে তৎপরতা কেন? মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টিই বা কেন যুক্ত করা হল?' তৃণমূল কংগ্রেসই একমাত্র নারীদের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে বলে দাবি করেন মমতা।
