বাংলায় ঘোষণা হয়ে গিয়েছে ভোটের নির্ঘণ্ট। দু'দফায় আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল হবে নির্বাচন। তার আগেই এসআইআর তালিকায় 'বিচারাধীন' থাকা নামের নিষ্পত্তি করতে চায় কমিশন। আর তাই এই কাজে আরও গতি আনা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, দিনে প্রায় দু’লক্ষ করে নামের নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। সেই মতো বুধবার পর্যন্ত মোট ২৩ লক্ষ ৩০ হাজার 'বিচারাধীন' নামের নিষ্পত্তি করেছেন বিচারকরা। আজ বৃহস্পতিবার এই সংখ্যাটা প্রায় ২৫ লাখের কাছে পৌঁছে যাবে বলেই আশাবাদী কমিশন। সিইও দপ্তর সূত্রে খবর, এমন গতিতে 'বিচারাধীন' থাকা নাম নিষ্পত্তি হলে ভোটের আগেই সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়ে যেতে পারে।
কমিশন সূত্রে খবর, দিনে প্রায় দু’লক্ষ করে নামের নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। সেই মতো বুধবার পর্যন্ত মোট ২৩ লক্ষ ৩০ হাজার 'বিচারাধীন' নামের নিষ্পত্তি করেছেন বিচারকরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। তবে তা ছিল অসম্পূর্ণ। ওই তালিকায় ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জনের নাম ‘যোগ্য’ হিসাবে রয়েছে। ‘বিবেচনাধীন’ ভোটার রয়েছেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে 'বিচারাধীন' থাকা নামগুলি খতিয়ে দেখে তা নিষ্পত্তি করার কাজ করছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। হাই কোর্ট নিযুক্ত ৭০০-র বেশি বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এই কাজ করছেন। কিন্তু আতঙ্ক এবং উদ্বেগ দুটোই রয়েছে। বিশেষ করে বিচারাধীন থাকা ভোটারদের কী হবে? তাঁরা কি আদৌ ভোট দিতে পারবেন? নাকি গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব থেকে দূরেই থাকতে হবে?
গত ১৫ মার্চ, ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের দিন সাংবাদিক বৈঠকে সেই বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, “সংবিধান মেনে এসআইআর হয়েছে। অবৈধ ভোটাররা যাতে বাদ পড়েন এবং বৈধ ভোটারদের নাম ওঠে, সেই লক্ষ্যে এসআইআর করা হচ্ছে। বিচারাধীন থাকা যোগ্য ভোটারদের নাম উঠবে ভোটার তালিকায়। তার জন্য অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ যাবে।” কবে এসব নিষ্পত্তির পর অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে, সেই সময় তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে আগামিকাল শুক্রবারই প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। যেখানে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া নামের উল্লেখ থাকবে বলেই খবর।
যদিও এই তালিকা প্রকাশের আগে আজ বৃহস্পতিবার ফের বৈঠকে বসছেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। যেখানে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক শীর্ষ কর্তার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়াও সিইও দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গেও হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে নিরাপত্তা-সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে খবর।
