মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে প্রার্থী দিয়েছে আইএসএফ। ওই কেন্দ্রে অতীতে সিপিএম প্রার্থী দিত। নিজের কেন্দ্র কি সিপিএম আইএসএফ-কে ছেড়ে দিল? সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদেই নতুন সংশোধনী ওয়াকফ আইন বাতিলের দাবিতে তীব্র অশান্তি ছড়িয়েছিল। বাড়ির সামনেই নৃশংসভাবে 'খুন' হয়েছিলেন বাবা-ছেলে হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস। মৃত হরগোবিন্দ দাস সিপিএমের সমর্থক ছিলেন বলে পরিবার ও স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্বের দাবি করে ছিলেন। ঘটনার পর মৃতের বাড়ি ছুটে গিয়েছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তাঁদের স্মৃতি, লড়াইকে সামনে রেখে সিপিএম কি ওই কেন্দ্রে লড়াই করতে পারত না? সেই প্রশ্ন উঠেছে। আইএসএফ প্রার্থী দেওয়ায় সিপিএমের নিচুতলার মধ্যেও চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে খবর। যদিও স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব এই কথা মানতে নারাজ।
নতুন সংশোধনী ওয়াকফ আইন বাতিলের দাবিতে বছর খানেক আগে তীব্র অশান্তি ছড়িয়েছিল মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে। খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল জাফরাবাদ গ্রাম। ঘটনায় নৃশংসভাবে খুন হয়েছিলেন বাবা-ছেলে হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস। ঘটনায় ১১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড রায় ঘোষণা করে আদালত। ওয়াকফ নিয়ে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে এখনও জেলবন্দি প্রায় ছ'শোজন। মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল জাফরাবাদ গ্রাম। ঘটনায় নৃশংসভাবে খুন হয়েছিলেন বাবা-ছেলে হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস। ঘটনায় ১১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড রায় ঘোষণা করে আদালত। ওয়াকফ নিয়ে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে এখনও জেলবন্দি প্রায় ছ'শোজন।
যদিও পরে বিজেপি মৃত হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের পরিবারকে কলকাতায় নিয়ে এসেছিল। সেই ঘটনাতেও রাজনৈতিক জলঘোলা হয়। সিপিএমও ওই ঘটনার পর আর সেই পরিবারকে নিয়ে তেমন কোনও উচ্চবাচ্য করেনি বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দলের কর্মী-সমর্থকরা মনে করেছিল সিপিএম নেতৃত্ব নিজের সর্বশক্তি দিয়ে এই কেন্দ্রে লড়াই করবেন। প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে প্রচারেও ঝড় তোলা হবে। কিন্তু এখনও তেমন হয়নি। সিপিএমের তরফে প্রার্থী দেওয়া তো হয়ইনি। উলটে আইএসএফ ওই কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে।
মৃত হরগোবিন্দ দাসের ছেলে সর্মথ দাস বলেন, "বাবা একসময় সিপিএমের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। নির্বাচনে বুথের এজেন্টও থাকতেন। বর্তমানে বাবা সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে এসেছিলেন।"
এবার ছাব্বিশের নির্বাচনে সিপিএম মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যে সামশেরগঞ্জ আসনটি তাদের হাত থেকে আইএসএফকে ছেড়ে দিয়েছে। ফলে সিপিএমের নিচুস্তরে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রকাশ্যে কিছু না বললেও দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে যে তাঁরা খুশি নন, হাবেভাবে কিছু ক্ষেত্রে বুঝিয়েও দিয়েছেন। কথা উঠছে, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও ভোটে লড়াই করার মতো মানসিকতা স্থানীয় নেতৃত্ব হারিয়েছেন স্থানীয় নেতৃত্ব! মৃত হরগোবিন্দ দাসের ছেলে সর্মথ দাস বলেন, "বাবা একসময় সিপিএমের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। নির্বাচনে বুথের এজেন্টও থাকতেন। বর্তমানে বাবা সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে এসেছিলেন।" তাঁর কথায়, "সিপিএম এখন ক্ষয়িষ্ণু শক্তিতে পরিণত হয়েছে।"
যদিও সিপিএমের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা এই অভিযোগ মানতে চাননি। তাঁর পালটা বক্তব্য, "রাজ্যে তৃণমূল-বিজেপিকে পরাস্ত করতে বাম-আইএসএফ জোট হয়েছে। জোটের স্বার্থে সামশেরগঞ্জ আসনটি আমাদের আইএসএফকে ছাড়তে হয়েছে।"
