ফের গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে আনল কমিশন! প্রথমে ১৬৫ কেন্দ্রে গণনা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটে এবার ৮৭ কেন্দ্রে এই কাজ হবে বলে জানাল কমিশন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের কারণে ফলাফল বেরতে দেরি হতে পারে বলে মেনে নিয়েছে কমিশনের একাংশ।
অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা দক্ষিণের জেলাশাসকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে চলেছে কমিশন। সোমবার ভোটারদের বোরোলিন ও বার্নল রাখার পরামর্শ দেন তিনি। ভোটারদের মধ্যে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করতেই তিনি সামাজিক মাধ্যমে এই পোস্ট করেছেন বলে অভিযোগ করে তৃণমূল। অভিযোগ পেয়ে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস ধরিয়েছে কমিশন।
বিধানসভা নির্বাচনের (Bengal Election 2026) আগে গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা নিয়ে একাধিক দফায় পরিবর্তনের পর অবশেষে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হল। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এ বারের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে গণনা কেন্দ্র করা হয়েছে ৮৭টি। প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর ১৬৫টি গণনা কেন্দ্রের নাম প্রস্তাব করেছিল। পরে তা কমিয়ে আনা হয় ১৫০-এ। নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা জারির পর আরও এক দফা পর্যালোচনায় সংখ্যাটি দাঁড়ায় ১১২। শেষ পর্যন্ত সব দিক খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা নির্ধারিত হয়েছে ৮৭-এ।
তৃণমূলের তরফে ডিও-এর বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়। তারপরই তাঁকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বেলডাঙার আইসিকে। কয়েকদিন আগেই বেলডাঙার এসডিপিও পদে বদল করে কমিশন। এবার আইসিকেও সরিয়ে দেওয়া হল।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ৮৭টি কেন্দ্র থেকেই রাজ্যের ২৯৪টি আসনের ফল ঘোষণা করা হবে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নিরাপত্তা, পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গণনার স্বচ্ছতা বজায় রাখার দিকগুলি বিবেচনা করেই এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবারই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধুমাত্র কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদনের। সেই শিলমোহর পড়লেই রাজ্য জুড়ে নির্ধারিত ৮৭টি গণনা কেন্দ্র প্রস্তুত হয়ে যাবে ভোটের ফল ঘোষণার জন্য।
এ দিকে নির্বাচন কমিশনের দক্ষিণ কলকাতার ডিইও-র সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে বোরোলিন ও বার্নল সংক্রান্ত পোস্ট করা হয়। ওই পোস্টের ক্যাপশনে একদিকে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে রয়েছে প্রছন্ন হুমকিও! ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘সকল মা, বোন ও ভাইদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান করা হচ্ছে। যদিও কিছু লোক এতে জ্বলতে পারে। গুণ্ডা, অপরাধীরা সাবধান। নিজেদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে বার্নল ও বোরোলিন মজুত রাখুন। না হলে উত্তাপ এতটাই বাড়বে যে আপনারা পুড়ে যাবেন।’
কমিশনের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে এহেন পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক! ঘটনায় রীতিমতো প্রশ্নের মুখে কমিশনের আধিকারিকরা। এরপরই তৃণমূলের তরফে ডিও-এর বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়। তারপরই তাঁকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বেলডাঙার আইসিকে। কয়েকদিন আগেই বেলডাঙার এসডিপিও পদে বদল করে কমিশন। এবার আইসিকেও সরিয়ে দেওয়া হল।
